
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:
কুয়াকাটায় দখল বাণিজ্য প্রতিহত করায় ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বুধবার সকালে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ মুসুল্লী এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি তার লিখিত বক্তব্য বলেন, আমি সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন অপরাজনীতি করি নাই। এমনকি আমার অনুসারীও যাতে কোন অপরাজনীতি করতে না পাওে সেদিকে সর্বদা সচেতন আছি। গত ০৫ আগষ্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের লোকজন আত্মগোপনে চলে যান। মাঠ পর্যায়ে বিএনপি’ও নেতাকর্মীরা বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকারকে সহযোগীতা করছেন। তবে বিএনপি’ও কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সালিশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এলাকা ভিত্তিক কোন সমস্যা থাকলে সমাধান করবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী আঃ রশিদ মোল্লা যিনি লতাচাপলী ইউনিয়ন কার্যালয়ের জন্য স্বৈরাচার হাসিনার নামে তিন শতাংশ জমি দান করেছেন।

বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের প্রভাব দেখিয়ে তিনি বিভিন্নভাবে অন্যায় করে অন্যের জমিতে সাইনবোর্ড, পিলার স্থাপন করে বাণিজ্য করে আসছে। তার পুত্র আবু বকর সিদ্দিক মোল্লা কুয়াকাটা পৌর বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক-২, দায়িত্ব পালন করছেন। রশিদ মোল্লা গত ০৫ আগষ্টের পর তার ছেলে আবু বকর সিদ্দিক মোল্লার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি’র সুনাম নষ্ট করছেন। পিতা-পুত্র মিলে অন্যায়ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের জমিতে সাইনবোর্ড ও পিলার স্থাপন করে আসছেন। এতে আমার দলের ভাব মূর্তি নষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি মহিপুর থানা পুলিশের অনুরোধে কুয়াকাটা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডেও পেট্রোল পাম্পের পিছনের ১৩ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে গিয়েছিলাম। সেখানে পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান এবং ওয়ার্ড বিএনপি’ও নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। আমি দখল বাণিজ্যের সাথে জড়িত কয়েকজনকে তাদের দখলদারিত্বের কর্মকান্ডে বাঁধা প্রদান করেছি। কারণ বিরোধীয় জমিতে কাগজপত্র ও আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাইনবোর্ড, পিলার স্থাপন করতে হবে। এই কথা বলায় কুয়াকাটা পৌর বিএনপি’র সহ-দপ্তর সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক মোল্লার ছোট ভাই মঞ্জু মোল্লা উদ্দেশ্য প্রণিতভাবে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে ‘খবর পটুয়াখালী’ নামে ফেসবুক পেজ কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর কওে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা ক্যাপশন দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। মোল্লা পরিবারের দখলদারিত্বে বাঁধা প্রদান করায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তারা আমার রাজনৈতিক সুনাম ও সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য ভিডিও ধারণ করে এমন মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, কুয়াকাটা হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র। এই পর্যটনের উন্নয়নের জন্য পৌরসভা গঠিত হয়েছে। তাই পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করে এই পৌরসভার রাজনীতি করতে হবে। দলের কেউ কোন দখল বাণিজ্য বা সালিশ বাণিজ্য করতে পারবে না। আমি যতদিন পৌর বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্বে আছি ততদিন সকল অন্যায় প্রতিহত করবো, ইনশাআল্লাহ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কুয়াকাটা পৌর বিএনপি’র সহ দপ্তর সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মোল্লা তার বিরুদ্ধে দখল বাণিজ্যের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা অস্বিকার করে বলেন, আমার আমার বাবা ২০০৪ সালে শতাধিক লোক নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এরপর তিনি কুয়াকাটা পৌর বিএনপি করে আসছেন।