
মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
কলাপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মহিপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুমন হাওলাদার ও তার ভাই মিরাজের বিরুদ্ধে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী, দুই সন্তানের জননী জান্নাতী বেগম (২৫) কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার শাশুড়ি হাসিনা বেগম (৫০) কেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের বিপিনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহত জান্নাতীকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসিনা বেগম প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন জান্নাতী বেগম জানান, প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে প্রতিবেশী সুমন হাওলাদারের সঙ্গে তাদের ১৩ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও সুমন হাওলাদার তা মানেননি বলে তিনি দাবি করেন। তার স্বামী সৌদি আরবে থাকায় তিনি ও তার শাশুড়ি বাড়িতে বসবাস করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শনিবার সুমন হাওলাদার ও তার ভাই মিরাজ বিরোধপূর্ণ জমি দখল করতে এলে তিনি ও তার শাশুড়ি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা দুজনকে মারধর করেন। জান্নাতী বলেন, “চার মাস আগে সিজারের মাধ্যমে আমার এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে। মারধরের সময় সুমন আমার তলপেটে লাথি দিলে আমি গুরুতর আহত হই এবং এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।”
জান্নাতীর শাশুড়ি হাসিনা বেগম বলেন, “আমাদের মারধরের সময় পাশের বাড়ির হাসান পুরো ঘটনাটি ভিডিও করছিল। পরে আমরা সরে যাওয়ার পর সুমন ও তার লোকজন হাসানকেও মারধর করে। এছাড়া বিরোধপূর্ণ জমিতে থাকা আমাদের কাঠ ও টিন লুটপাট করে নিয়ে যায়।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন হাওলাদার বলেন, “ওই জমি আমার। তারা আমার জমি দখল করেছে। আমি বাধা দিতে গেলে উল্টো তারা আমাকে মারধর করে। বর্তমানে আমিও হাসপাতালে ভর্তি আছি।”
মহিপুর থানা যুবদলের সভাপতি মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান মোল্লা বলেন, আমরা এখনো কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহব্বত খান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”