
মো: হাবিবুল্লাহ খান রাব্বী :
মহিপুরের কুয়াকাটায় আদালতের রায়প্রাপ্ত জমি জোরপূর্বক দখল, বসতঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান।
শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মহিপুর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে শাহজাহান বলেন, তিনি মহিপুর থানাধীন অনন্তপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মৃত ইয়াকুব আলী গাজী লতাচাপলী মৌজার (জে এল নং-৩৪), বর্তমান কুয়াকাটা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এসএ খতিয়ান নং-৪৮৫ এর অন্তর্ভুক্ত ৫৩৯২, ৫৩৯৩, ৫৩৯৪, ৫৩৯৫, ৫৩৯৬, ৫৪০২ ও ৫৪০৪ নং দাগসহ মোট ৬ একর ৮০ শতাংশ জমির মধ্যে ১ একর জমির মালিক ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, তার পিতার রহস্যজনক হত্যার পর উক্ত ১ একর জমির মালিকানা তিনি ও তার দুই ভাই এবং পাঁচ বোন ওয়ারিশ সূত্রে লাভ করেন। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করলেও পরবর্তীতে তিনি জমির দখল নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে ২০২৬ইং আদালতের রায় লাভ করেন।
শাহজাহানের অভিযোগ, স্থানীয় ভূমিদস্যু মো: গোলাম হায়দার সেন্টু আওয়ামীলীগের ডোনার ছিলেন,তাই দীর্ঘ বছর ধরে ওই জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে এবং তাকে বিভিন্ন সময় মারধরও করেছে। সর্বশেষ ২০২৬ইং আদালতের রায়ের পর উভয় পক্ষের নিযুক্ত সার্ভেয়ার এবং থানা পুলিশের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করে ৮৮ শতাংশ জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ, টিউবওয়েল স্থাপন করে বসবাস শুরু করেন।

বি এন পি ক্ষমতায় আসার পর এই ১ম বার ভূমি দস্যু গোলাম হায়দার সেন্টু আত্ম প্রকাশ করেছে। এরই ধারা বাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভূমি দস্যু মো: গোলাম হায়দার সেন্টুর নেতৃত্বে তার ভাগিনা তুহিনসহ শতাধিক লোকজন ওই জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তারা তার বসতঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে এবং ভেকু মেশিন দিয়ে ঘর গুঁড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ট্রাকে করে ঘরের মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শাহজাহান।
এ অবস্থায় তিনি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি প্রচার করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং তার জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
এসময় মহিপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিবুল্লাহ খান রাব্বী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল ওহাব হাওলাদার, অর্থ সম্পাদক এম পলাশ সরকার, সদস্য মাইনুদ্দিন আল আতিক উপস্থিত ছিলেন।
এব্যাপারে অভিযুক্ত মো: গোলাম হায়দার সেন্টু ও তার ভাগিনা তুহিনের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্থুতি চলছে।