
মহিপুর সংবাদদাতা:
পটুয়াখালীর মহিপুরে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সকালে কুয়াকাটার অদুরে খাপড়াভাঙ্গা এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিরপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এ হয়রানি বন্ধ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১) নিরপরাধ রহিম খানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা থেকে তাকে অবিলম্বে অব্যাহতি প্রদান।
২) অর্থের বিনিময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও একতরফা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩) মহামান্য আদালতের নিকট মামলাটির পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার জেএল নম্বর ৩৩ হরেন্দ্রপুর মৌজা ও কিসমতে এসএ ১০৬ ও ৬২ নম্বর খতিয়ানে রহিম খান গং এবং মোছা. মনিরা বেগম গংদের জমি রয়েছে। কাগজপত্র অনুযায়ী মনিরা বেগম গংদের যে পরিমাণ জমি থাকার কথা, বিএস জরিপে তার চেয়ে বেশি জমি তাদের নামে রেকর্ড হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বসে সমাধানের প্রস্তাব দিলে মনিরা বেগম গং বসার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করেন।
পরবর্তীতে রহিম খান গং কাগজপত্র অনুযায়ী তাদের জমি ভোগদখলের উদ্যোগ নিলে মনিরা বেগম রহিম খানদের ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ মামলাটি সিআর মামলা নম্বর ৮৫৮/২৫ হিসেবে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে রহিম খান বলেন, “আমরা পৈতৃক সূত্রে এসএ ১০৬ ও ৬২ নম্বর খতিয়ানে মোট ৩৬ দশমিক ২৯ একর সম্পত্তির রেকর্ডীয় মালিক। অপরদিকে মামলার বিবরণে দেখা যায়, মনিরা বেগমদের স্বামী ওই দুই খতিয়ানে মাত্র ৬ দশমিক ৭৯ একর জমি ক্রয় করেছেন। পরবর্তীতে বিএস জরিপে তাদের নামে অতিরিক্ত জমি রেকর্ড হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তির কথা থাকলেও মনিরা বেগম তা না করে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দায়িত্ব দিলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে আমাদের বক্তব্য না নিয়ে একতরফা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি থেকে রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এবিষয়ে মনিরা বেগম বলেন, আমাদের রেকর্ডীয় প্রায় ১ দশমিক ২০ একর জমিতে একটি মাছের ঘের রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘেরটি আমরা স্থানীয় মঞ্জু নামের এক ব্যক্তির কাছে এক বছর মেয়াদে লিজ দিয়ে আসছিলাম। এভাবে প্রায় টানা ৯ বছর ধরে মঞ্জু লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসেন।
তবে গত বছর থেকে আমরা আর মঞ্জুর কাছে ঘেরটি লিজ না দিয়ে নুরছায়েদ নামের এক ব্যক্তির কাছে লিজ প্রদান করি। এতে মঞ্জু ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে এবং লিজ না পেয়ে স্থানীয় রহিম খানের কুপরামর্শে আমাদের লিজ দেওয়া ঘেরটি অবৈধভাবে দখলের জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
ঘের দখলকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে রহিম খান, তার স্ত্রীসহ আরও কয়েকজন আমার মেয়ে ও আমাকে মারধর করে। এ ঘটনায় আমি ন্যায়বিচারের আশায় তাদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি।
এব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা শাখা পটুয়াখালীর তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান খান বলেন, পক্ষদ্বয়কে নোটিশ প্রদান করে উভয়ের উপস্থিতিতেই সরজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।