
মো: হাবিবুল্লাহ খান রাব্বী।।
মহিপুর থানাধীন লতাচাপলি ইউনিয়নের খাজুরা এলাকায় জমিজমা বিক্রি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আক্কাস হাওলাদারের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলায় চার জন আহত হয়েছে, এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কা জনক। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে আহত পরিবারের মালিকানাধীন জমিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— মতিউর রহমান (৫০), জাকারিয়া (৪০) এবং আবু তালেব (৩৫)।
স্থানীয়রা জানান, হামলার পর হামলাকারীরা আহতদের ঘিরে রেখে চিকিৎসা নিতে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
অপরদিকে হামলাকারীদের মধ্যে আক্কাস হাওলাদার এর ছেলে রাব্বি (২২), আহত হয়েছে।
প্রথমে আহতদের কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতলে নেওয়া হয়। পরে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. সোহেল রানা জানান, জাকারিয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় তার সিটি স্ক্যান ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

আহত পরিবার জানায়, তিন বছর আগে তারা ম্যাকটেন গ্রুপের কাছে ৬০ শতাংশ জমি ৭৮ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি করেন। এ সময় ১৯ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে রেজিস্ট্রি বায়না দলিল সম্পাদন করা হয়। শর্ত ছিল ছয় মাসের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করে সাব-কবলা দলিল করা হবে। কিন্তু ক্রেতা পক্ষ টাকা না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সময়ক্ষেপণ করে আসছে—এ অভিযোগ বিক্রেতা পরিবারের।
পরিবারের দাবি, বুধবার আক্কাস হাওলাদার ও তার স্ত্রী রহিমা আক্তার রুপার নেতৃত্বে লোকজন বেকু মেশিন নিয়ে জোরপূর্বক মাটি কাটতে গেলে তারা বাঁধা দেয়। তখনই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এছাড়া হামলাকারীরা দুটি প্লাটিনা মোটরসাইকেল ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আক্কাস হাওলাদার বলেন,
“মতিউর রহমানদের কাছ থেকে আমি জমি বিক্রি করিয়ে দিয়েছিলাম ঢাকার একটি কোম্পানির কাছে। রেজিস্ট্রি বায়না দলিল রয়েছে, যদিও সাব-কবলা দলিল এখনো হয়নি। জমিতে কাজ করতে গেলে তারা বাঁধা দিলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে আমিও ও আমার ছেলে রাব্বী আহত হই।”
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন,
“ঘটনার বিষয়ে অবগত আছি। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”