জানা গেছে, ২০১৮ সালে ঢাকায় চাকরিরত মো. সোহেল হাওলাদার স্থানীয় মো. জাকির হোসেনের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে বোম্বাই মরিচ চাষ শুরু করেন এবং প্রথম বছরেই লাভের মুখ দেখেন। ২০২২ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি কৃষিতে মনোনিবেশ করেন। প্রথম বছরে ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ২ লাখ টাকা আয় করেন তিনি। তার সাফল্য দেখে গ্রামের অন্য যুবকরাও মরিচ চাষে যুক্ত হন।
স্থানীয়ভাবে বোম্বাই মরিচ নামে পরিচিত হলেও এটি দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নাগা মরিচ নামে পরিচিত। সাধারণ কাঁচা মরিচের তুলনায় এর চাহিদা ও বাজারমূল্য বেশি। বর্তমানে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি ঘরে কেউ না কেউ বোম্বাই মরিচ চাষ করছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে বাঁশ ও লোহার পাইপের কাঠামোর ওপর পলিথিন শিট দিয়ে সেড তৈরি করে মরিচ উৎপাদন করা হয়। এতে খরচ কমলেও লাভ বেশি হয়। কৃষকরা পাইকারদের কাছে প্রতি পিস মরিচ ৩-৪ টাকায় বিক্রি করেন, বর্ষা মৌসুমে এ দাম ৯ টাকায় পৌঁছায়।
কৃষক মো. নূরে আলম হাওলাদার জানান, এ বছর ১৫ শতাংশ জমিতে বোম্বাই মরিচ চাষ করেছি। ১ লাখ টাকা খরচ করে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছি, আরও বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।
আরেক কৃষক মো. ইউনূস হাওলাদার বলেন, বর্ষার সময় দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে মরিচ কিনতে আসে। তখন বেশি লাভ হয়।
কাঁচামাল পয়েন্টের ও পাইকারি বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে এখান থেকে মরিচ নিয়ে যায়। এখানকার মরিচ অনেক সুস্বাদু হওয়ায় এর কদর বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো আরাফাত হোসাইন বলেন, আধুনিক কৃষির সাথে নীলগঞ্জের কৃষকরা সরাসরি সম্পৃক্ত। তারা অসময়ে ফসল ফলিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। বিশেষ করে সেডের মাধ্যমে বোম্বাই মরিচ চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে । বর্ষা মৌসুমে উৎপাদন বেশি হয় এবং দামও বেশি পায় কৃষকেরা। ২ শতক জমি থেকে ১ লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারে। আমরা সব সময় পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে থাকিব।