ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাগরে ফিরছেন জেলেরা, চলছে প্রস্তুতি

  • আপডেট সময় : ১১:২৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ৪০৯ বার পড়া হয়েছে

নির্ভুল বার্তা ডেক্সঃ

ইলিশের প্রজনন ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ঘোষিত ৫৮ দিনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ মধ্যরাতে। দীর্ঘ এই নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারো সমুদ্রে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ শিকারে নামবেন পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার কাউন্টডাউন শুরু হতেই পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মহিপুর ও আলিপুরসহ বিভিন্ন ঘাটে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে জেলেরা ট্রলার পরিষ্কার, জাল সেলাই, ইঞ্জিন মেরামত এবং সাগরে যাওয়ার জন্য বরফ ও খাদ্য সামগ্রী মজুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছিল। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সময়ের অসামঞ্জস্যতা এবং জেলেদের যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে গত বছর থেকে সময় পরিবর্তন করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন এই নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরা, পরিবহণ, সংরক্ষণ ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।

মহিপুরের জেলে মকবুল হাওলাদার বলেন, ভরা মৌসুমে ইলিশ কম পাওয়া গিয়েছিল। এরপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা। বাজারে জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে সরকারের দেওয়া চাল দিয়ে সংসার চালানো কঠিন ছিল। তারপরও নিষেধাজ্ঞা মেনেছি, আশা করি এবার সাগরে ভালো ইলিশ পাবো।

আলিপুরের জেলে খলিলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ১০ বছর ধরে সমুদ্রে যাই। কিন্তু এখনও সরকারি প্রণোদনার তালিকায় আমার নাম নেই। অথচ যারা জেলে নয়, তারাও চাল পেয়েছে। আমরা চাই প্রকৃত জেলেদের তালিকাভুক্ত করা হোক।

আরেক জেলে রুহুল আমিন বলেন, আমরা অনেকেই এনজিওর ঋণ নিয়ে ট্রলার চালাই। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কিস্তি দিতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আজ মধ্যরাতের পর আবার সমুদ্রে নামবো, আশা করি ভালো মাছ পাবো।

আলিপুর মৎস্য আড়ৎদার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল ঘরামী বলেন, ৫৮ দিন ধরে আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ ছিল। মধ্যরাতের পর থেকেই জেলেরা সমুদ্রে নামবে, আমরাও আবার কাজ শুরু করব। আশা করি এবার প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে, যা জেলে ও ব্যবসায়ী উভয়ের কষ্ট লাঘব করবে।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎদার মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা মিয়া বলছন, জেলেরা সঠিকভাবে সরকারের নিষেধাজ্ঞা পালন করেছে। মাছের সরবরাহ বাড়লে বাজারে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দাম কিছুটা কমতে পারে এবং ব্যবসাও জমে উঠবে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য ছিল ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ। আমরা সফলভাবে তা বাস্তবায়ন করেছি। আশা করছি জেলেরা এর সুফল পাবে এবং তাদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাগরে ফিরছেন জেলেরা, চলছে প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ১১:২৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

নির্ভুল বার্তা ডেক্সঃ

ইলিশের প্রজনন ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ঘোষিত ৫৮ দিনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ মধ্যরাতে। দীর্ঘ এই নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারো সমুদ্রে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ শিকারে নামবেন পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার কাউন্টডাউন শুরু হতেই পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মহিপুর ও আলিপুরসহ বিভিন্ন ঘাটে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে জেলেরা ট্রলার পরিষ্কার, জাল সেলাই, ইঞ্জিন মেরামত এবং সাগরে যাওয়ার জন্য বরফ ও খাদ্য সামগ্রী মজুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছিল। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সময়ের অসামঞ্জস্যতা এবং জেলেদের যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে গত বছর থেকে সময় পরিবর্তন করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন এই নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরা, পরিবহণ, সংরক্ষণ ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।

মহিপুরের জেলে মকবুল হাওলাদার বলেন, ভরা মৌসুমে ইলিশ কম পাওয়া গিয়েছিল। এরপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা। বাজারে জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে সরকারের দেওয়া চাল দিয়ে সংসার চালানো কঠিন ছিল। তারপরও নিষেধাজ্ঞা মেনেছি, আশা করি এবার সাগরে ভালো ইলিশ পাবো।

আলিপুরের জেলে খলিলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ১০ বছর ধরে সমুদ্রে যাই। কিন্তু এখনও সরকারি প্রণোদনার তালিকায় আমার নাম নেই। অথচ যারা জেলে নয়, তারাও চাল পেয়েছে। আমরা চাই প্রকৃত জেলেদের তালিকাভুক্ত করা হোক।

আরেক জেলে রুহুল আমিন বলেন, আমরা অনেকেই এনজিওর ঋণ নিয়ে ট্রলার চালাই। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কিস্তি দিতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আজ মধ্যরাতের পর আবার সমুদ্রে নামবো, আশা করি ভালো মাছ পাবো।

আলিপুর মৎস্য আড়ৎদার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল ঘরামী বলেন, ৫৮ দিন ধরে আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ ছিল। মধ্যরাতের পর থেকেই জেলেরা সমুদ্রে নামবে, আমরাও আবার কাজ শুরু করব। আশা করি এবার প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে, যা জেলে ও ব্যবসায়ী উভয়ের কষ্ট লাঘব করবে।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎদার মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা মিয়া বলছন, জেলেরা সঠিকভাবে সরকারের নিষেধাজ্ঞা পালন করেছে। মাছের সরবরাহ বাড়লে বাজারে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দাম কিছুটা কমতে পারে এবং ব্যবসাও জমে উঠবে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য ছিল ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ। আমরা সফলভাবে তা বাস্তবায়ন করেছি। আশা করছি জেলেরা এর সুফল পাবে এবং তাদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।