ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এইমাত্র পাওয়াঃ
Logo অবৈধ ট্রলিং কি বৈধ হলো? মৎস্য কর্মচারীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক, আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন Logo মহিপুরে ‘রনি স্টোর’-এ দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকাসহ ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট Logo গলাচিপা থানা পুলিশ কর্তৃক ইয়াবাসহ ১ জন আসামী গ্রেফতার। Logo ৫০ পিচ টেপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রয়ের ২৪০০ টাকা সহ ০১ জন গ্রেফতার। Logo কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ২০ কেজির ‘সামুদ্রিক শোল’, ১৪ হাজারে বিক্রি Logo কুয়াকাটা সৈকতের বালুচরে ভেসে এলো বিরল সামুদ্রিক ‘ফাইলফিশ’ Logo কুয়াকাটায় হানিফ ফকির হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন, অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি Logo মহিপুরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন Logo কলাপাড়ায় বি”রোধের জেরে বসতবাড়িতে অ”গ্নিসংযোগের অভিযোগ, ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি Logo  ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পালিয়ে যাওয়ায় আটক হয়নি কেউ
আজকের শিরোনামঃ
Logo অবৈধ ট্রলিং কি বৈধ হলো? মৎস্য কর্মচারীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক, আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন Logo মহিপুরে ‘রনি স্টোর’-এ দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকাসহ ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট Logo গলাচিপা থানা পুলিশ কর্তৃক ইয়াবাসহ ১ জন আসামী গ্রেফতার। Logo ৫০ পিচ টেপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রয়ের ২৪০০ টাকা সহ ০১ জন গ্রেফতার। Logo কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ২০ কেজির ‘সামুদ্রিক শোল’, ১৪ হাজারে বিক্রি Logo কুয়াকাটা সৈকতের বালুচরে ভেসে এলো বিরল সামুদ্রিক ‘ফাইলফিশ’ Logo কুয়াকাটায় হানিফ ফকির হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন, অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি Logo মহিপুরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন Logo কলাপাড়ায় বি”রোধের জেরে বসতবাড়িতে অ”গ্নিসংযোগের অভিযোগ, ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি Logo  ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পালিয়ে যাওয়ায় আটক হয়নি কেউ

অবৈধ ট্রলিং কি বৈধ হলো? মৎস্য কর্মচারীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক, আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন

  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৪৩৮ বার পড়া হয়েছে

কুয়াকাটা প্রতিনিধিঃ

উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত অবৈধ ট্রলিংকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ একদিকে যান্ত্রিক (Mechanised) মৎস্য নৌকায় ট্রলিং সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন খারিজ করে মৎস্য অধিদপ্তরের জারি করা নোটিশকে বৈধ ঘোষণা করলেও, পরে আরেকটি রিটে দেওয়া ছয় মাসের অন্তর্বর্তী আদেশকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। এরই মধ্যে কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য অফিসের এক ক্ষেত্র সহকারীর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ মৎস্য অধিদপ্তর যান্ত্রিক মৎস্য নৌকায় ট্রলিংয়ের অভিযোগে একাধিক নোটিশ জারি করে। নোটিশে বলা হয়, সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ (Marine Fisheries Act, 2020) এবং Marine Fisheries Rules, 2023 অনুযায়ী যান্ত্রিক মৎস্য নৌকায় ট্রলিংয়ের অনুমতি নেই। অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মো. ছগির হোসেন হাওলাদার (Md. Sogir Hossain Howlader) ও অন্যান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং-৬৮৫৪/২০২৪ দায়ের করেন।

পিটিশনারদের দাবি ছিল, তাদের নৌকায় ট্রল ডোর বা ট্রলিং সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় না এবং তদন্ত ও শুনানির সুযোগ ছাড়াই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাই নোটিশগুলো বাতিল হওয়া উচিত।

প্রাথমিক শুনানি শেষে ১২ জুন ২০২৪ হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং কিছু সময়ের জন্য অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। ওই সময় পিটিশনাররা দাবি করেন, তারা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে মাছ ধরছেন এবং প্রশাসনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেল ও ভীষ্মদেব চক্রবর্তী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৮ মার্চ ২০২৬ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের জারি করা নোটিশে “কোনো আইনগত ত্রুটি বা অনিয়ম (legal infirmity or irregularity) নেই।”

আদালত Rule is discharged ঘোষণা করে রিট খারিজ করেন এবং পূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশ (Stay Order) প্রত্যাহার করেন। ১২ মে ২০২৬ রায়টি টাইপ ও প্রশাসনিকভাবে সম্পন্ন হয়।

রায়ে আদালত সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০-এর ধারা ২(৯), ২(১৮), ১৪, ১৬ ও ৪৫ এবং Marine Fisheries Rules, 2023-এর বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণ করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী—
Industrial Fishing Vessel এবং Mechanised Fishing Boat দুটি পৃথক শ্রেণির নৌযান। ট্রলিং পদ্ধতিতে মাছ ধরার অনুমতি শিল্পভিত্তিক ট্রলারের জন্য নির্ধারিত।সাধারণ যান্ত্রিক মৎস্য নৌকায় ট্রলিংয়ের অনুমতি নেই।
লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘিত হলে মৎস্য অধিদপ্তর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।

পরে যান্ত্রিক মৎস্য নৌকার মালিকদের একটি অংশ ৭ জুন ২০২৬ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন জমা দেন। তাদের অভিযোগ ছিল, বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও মাছ ধরায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এরপর হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চে নতুন রিটের শুনানি হয়। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১২ জুলাই ২০২৬ একটি Rule Nisi জারি করেন।

আদালত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য বিবাদীদের আবেদনকারীদের বৈধ লাইসেন্সধারী নৌযানে মাছ ধরার কার্যক্রমে অযথা বাধা বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেন এবং চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেন।

তবে এই আদেশে কোথাও সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ বা Marine Fisheries Rules, 2023 বাতিল করা হয়েছে কিংবা যান্ত্রিক নৌযানে ট্রলিং বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে—এমন কোনো বক্তব্য দেখা যায় না।

এর তিন দিন পর, ১৫ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তিনটি স্টেশনের সমন্বয়ে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে অবৈধ ট্রলিংয়ে ব্যবহারের অভিযোগে চারটি ট্রলিং বোট আটক করা হয়।

জব্দকৃত নৌযানগুলো নিজামপুর কোস্ট গার্ড স্টেশনে নেওয়ার সময় কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী মো. মহসিন রেজা সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চ আদালতের একটি আদেশের কারণে আগামী ছয় মাস অবৈধ ট্রলিং বোট তাদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিসহ মাছ ধরতে পারবে।

এই বক্তব্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

উপজেলা ক্ষেত্র সহকারি মো. মহসিন রেজা বলেন, গণমাধ্যমে এভাবে ভক্তের পদে আর আমার রাইট নেই, যেহেতু এটি একটি ভাইরাল বিষয় তাই উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ব্রিফিং করেছি।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জানান, উচ্চ আদালতের একটি আদেশের তথ্য পাওয়া গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ আইনি ব্যাখ্যা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, বিষয়টি মৎস্য অধিদপ্তরের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার সেলে পাঠানো হয়েছে। তারা নথিপত্র সংগ্রহ করে আইনগত মতামত দেবেন। সেই মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় আইন ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে, একটি অন্তর্বর্তী আদেশ (Interim Order) কি চূড়ান্ত রায়কে অকার্যকর করে দেয়?

উপলব্ধ আদালতের নথি অনুযায়ী, ৮ মার্চ ২০২৬-এর রায়ে হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে মৎস্য অধিদপ্তরের নোটিশ বহাল রেখেছেন। অন্যদিকে ১২ জুলাই ২০২৬-এর আদেশটি একটি নতুন মামলায় দেওয়া অন্তর্বর্তী নির্দেশ, যেখানে আদালত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীদের হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই আদেশে যান্ত্রিক মৎস্য নৌকায় ট্রলিং বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে—এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা নথিতে দেখা যায় না।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, আদালতের আদেশের ব্যাখ্যা দেওয়া এবং তা গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা একজন ক্ষেত্র সহকারীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে কি না। অনেকের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা আইন শাখার মাধ্যমে দেওয়া উচিত।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, আদালতের আদেশ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে মৎস্য অধিদপ্তরের উচিত দ্রুত আনুষ্ঠানিক আইনি ব্যাখ্যা প্রকাশ করা। একই সঙ্গে অবৈধ ট্রলিং বন্ধে সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ এবং Marine Fisheries Rules, 2023 অনুযায়ী স্বচ্ছ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ ট্রলিং কি বৈধ হলো? মৎস্য কর্মচারীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক, আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন

অবৈধ ট্রলিং কি বৈধ হলো? মৎস্য কর্মচারীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক, আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৩:০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

কুয়াকাটা প্রতিনিধিঃ

উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত অবৈধ ট্রলিংকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ একদিকে যান্ত্রিক (Mechanised) মৎস্য নৌকায় ট্রলিং সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন খারিজ করে মৎস্য অধিদপ্তরের জারি করা নোটিশকে বৈধ ঘোষণা করলেও, পরে আরেকটি রিটে দেওয়া ছয় মাসের অন্তর্বর্তী আদেশকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। এরই মধ্যে কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য অফিসের এক ক্ষেত্র সহকারীর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ মৎস্য অধিদপ্তর যান্ত্রিক মৎস্য নৌকায় ট্রলিংয়ের অভিযোগে একাধিক নোটিশ জারি করে। নোটিশে বলা হয়, সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ (Marine Fisheries Act, 2020) এবং Marine Fisheries Rules, 2023 অনুযায়ী যান্ত্রিক মৎস্য নৌকায় ট্রলিংয়ের অনুমতি নেই। অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মো. ছগির হোসেন হাওলাদার (Md. Sogir Hossain Howlader) ও অন্যান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং-৬৮৫৪/২০২৪ দায়ের করেন।

পিটিশনারদের দাবি ছিল, তাদের নৌকায় ট্রল ডোর বা ট্রলিং সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় না এবং তদন্ত ও শুনানির সুযোগ ছাড়াই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাই নোটিশগুলো বাতিল হওয়া উচিত।

প্রাথমিক শুনানি শেষে ১২ জুন ২০২৪ হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং কিছু সময়ের জন্য অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। ওই সময় পিটিশনাররা দাবি করেন, তারা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে মাছ ধরছেন এবং প্রশাসনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেল ও ভীষ্মদেব চক্রবর্তী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৮ মার্চ ২০২৬ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের জারি করা নোটিশে “কোনো আইনগত ত্রুটি বা অনিয়ম (legal infirmity or irregularity) নেই।”

আদালত Rule is discharged ঘোষণা করে রিট খারিজ করেন এবং পূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশ (Stay Order) প্রত্যাহার করেন। ১২ মে ২০২৬ রায়টি টাইপ ও প্রশাসনিকভাবে সম্পন্ন হয়।

রায়ে আদালত সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০-এর ধারা ২(৯), ২(১৮), ১৪, ১৬ ও ৪৫ এবং Marine Fisheries Rules, 2023-এর বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণ করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী—
Industrial Fishing Vessel এবং Mechanised Fishing Boat দুটি পৃথক শ্রেণির নৌযান। ট্রলিং পদ্ধতিতে মাছ ধরার অনুমতি শিল্পভিত্তিক ট্রলারের জন্য নির্ধারিত।সাধারণ যান্ত্রিক মৎস্য নৌকায় ট্রলিংয়ের অনুমতি নেই।
লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘিত হলে মৎস্য অধিদপ্তর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।

পরে যান্ত্রিক মৎস্য নৌকার মালিকদের একটি অংশ ৭ জুন ২০২৬ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন জমা দেন। তাদের অভিযোগ ছিল, বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও মাছ ধরায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এরপর হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চে নতুন রিটের শুনানি হয়। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১২ জুলাই ২০২৬ একটি Rule Nisi জারি করেন।

আদালত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য বিবাদীদের আবেদনকারীদের বৈধ লাইসেন্সধারী নৌযানে মাছ ধরার কার্যক্রমে অযথা বাধা বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেন এবং চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেন।

তবে এই আদেশে কোথাও সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ বা Marine Fisheries Rules, 2023 বাতিল করা হয়েছে কিংবা যান্ত্রিক নৌযানে ট্রলিং বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে—এমন কোনো বক্তব্য দেখা যায় না।

এর তিন দিন পর, ১৫ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তিনটি স্টেশনের সমন্বয়ে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে অবৈধ ট্রলিংয়ে ব্যবহারের অভিযোগে চারটি ট্রলিং বোট আটক করা হয়।

জব্দকৃত নৌযানগুলো নিজামপুর কোস্ট গার্ড স্টেশনে নেওয়ার সময় কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী মো. মহসিন রেজা সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চ আদালতের একটি আদেশের কারণে আগামী ছয় মাস অবৈধ ট্রলিং বোট তাদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিসহ মাছ ধরতে পারবে।

এই বক্তব্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

উপজেলা ক্ষেত্র সহকারি মো. মহসিন রেজা বলেন, গণমাধ্যমে এভাবে ভক্তের পদে আর আমার রাইট নেই, যেহেতু এটি একটি ভাইরাল বিষয় তাই উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ব্রিফিং করেছি।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জানান, উচ্চ আদালতের একটি আদেশের তথ্য পাওয়া গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ আইনি ব্যাখ্যা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, বিষয়টি মৎস্য অধিদপ্তরের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার সেলে পাঠানো হয়েছে। তারা নথিপত্র সংগ্রহ করে আইনগত মতামত দেবেন। সেই মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় আইন ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে, একটি অন্তর্বর্তী আদেশ (Interim Order) কি চূড়ান্ত রায়কে অকার্যকর করে দেয়?

উপলব্ধ আদালতের নথি অনুযায়ী, ৮ মার্চ ২০২৬-এর রায়ে হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে মৎস্য অধিদপ্তরের নোটিশ বহাল রেখেছেন। অন্যদিকে ১২ জুলাই ২০২৬-এর আদেশটি একটি নতুন মামলায় দেওয়া অন্তর্বর্তী নির্দেশ, যেখানে আদালত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীদের হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই আদেশে যান্ত্রিক মৎস্য নৌকায় ট্রলিং বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে—এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা নথিতে দেখা যায় না।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, আদালতের আদেশের ব্যাখ্যা দেওয়া এবং তা গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা একজন ক্ষেত্র সহকারীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে কি না। অনেকের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা আইন শাখার মাধ্যমে দেওয়া উচিত।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, আদালতের আদেশ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে মৎস্য অধিদপ্তরের উচিত দ্রুত আনুষ্ঠানিক আইনি ব্যাখ্যা প্রকাশ করা। একই সঙ্গে অবৈধ ট্রলিং বন্ধে সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ এবং Marine Fisheries Rules, 2023 অনুযায়ী স্বচ্ছ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।