ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এইমাত্র পাওয়াঃ
Logo ৩৪ লিটার দেশীয় চোলাই মদ সহ একজন গ্রেফতার Logo প্রায় ২ কোটি মানুষের উপস্থিতিতে আলী খামেনীর প্রথম জানাজার নাম অনুষ্ঠিত হয়েছে  Logo জকিগঞ্জে পুলিশের অভিযান: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তসহ গ্রেফতার ৩ Logo সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা  পরিপত্র জারি  Logo বরগুনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ৪ জুলাই ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) পিচ অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০২ (দুই) জন আসামী গ্রেপ্তার। Logo চুয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালনা কালে বাইসাইকেল চোর গ্রেফতার- ০১  Logo আন্তজেলা কুখ্যাত ডাকাত জুয়েলকে বিশেষ অভিযানের নিয়ামতপুর থেকে গ্রেফতার Logo ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ভয়াবহ সতর্কবার্তা  Logo ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ দুইজন খুচরা মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা: বগুড়া শিবগঞ্জে মহাস্থান কলেজ অপারেটর শাওন গ্রেফতার
আজকের শিরোনামঃ
Logo ৩৪ লিটার দেশীয় চোলাই মদ সহ একজন গ্রেফতার Logo প্রায় ২ কোটি মানুষের উপস্থিতিতে আলী খামেনীর প্রথম জানাজার নাম অনুষ্ঠিত হয়েছে  Logo জকিগঞ্জে পুলিশের অভিযান: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তসহ গ্রেফতার ৩ Logo সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা  পরিপত্র জারি  Logo বরগুনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ৪ জুলাই ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) পিচ অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০২ (দুই) জন আসামী গ্রেপ্তার। Logo চুয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালনা কালে বাইসাইকেল চোর গ্রেফতার- ০১  Logo আন্তজেলা কুখ্যাত ডাকাত জুয়েলকে বিশেষ অভিযানের নিয়ামতপুর থেকে গ্রেফতার Logo ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ভয়াবহ সতর্কবার্তা  Logo ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ দুইজন খুচরা মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা: বগুড়া শিবগঞ্জে মহাস্থান কলেজ অপারেটর শাওন গ্রেফতার

রাক্ষুসে ট্রলিং বন্ধ না হলে জীবিকা টিকবে না—জেলেদের আহাজারি

  • আপডেট সময় : ০২:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ৪২৩ বার পড়া হয়েছে

মোঃ হাবিবুল্লাহ খান রাব্বীঃ

বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আলীপুর মৎস্য বন্দর এলাকার জেলে ও ট্রলার মালিকরা। একই সঙ্গে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় উপকূলীয় জেলেদের জীবন-জীবিকা চরম সংকটে পড়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে মহিপুর প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধে সরকারের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেলেদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলাপাড়া ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মৃধা এবং কামাল মাঝি। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গভীর সমুদ্রে অবৈধ ট্রলিংয়ের কারণে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে। বেহুন্দি জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারে বিপুল পরিমাণ পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন হওয়ায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, আধুনিক ফিশ ফাইন্ডার, জিপিএস ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিছু প্রভাবশালী ট্রলিং বোট সমুদ্রে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। ফলে সাধারণ জেলেরা দিনের পর দিন সাগরে অবস্থান করেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছেন না। এতে তাদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাছের সংকটের কারণে বহু জেলে এনজিও ও বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত আয় না থাকায় সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক জেলে ইতোমধ্যে পেশা পরিবর্তন করে কাজের সন্ধানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন। খাদ্য, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষা ব্যয় বহন করাও অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

জেলেদের নেতারা বলেন, “রাক্ষুসে ট্রলিং বোটের কারণে সাধারণ জেলেরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে উপকূলীয় মৎস্যখাত ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে।” তারা তাদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে চরম হতাশা প্রকাশ করেন এবং জীবিকা রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অবৈধ ট্রলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, গভীর সমুদ্রে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, নিষিদ্ধ জাল জব্দ, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের প্রাণিজ আমিষের একটি বড় অংশ সামুদ্রিক মাছ থেকে আসে। তাই বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা না গেলে শুধু উপকূলীয় জেলেদের জীবন-জীবিকাই নয়, দেশের সুনীল অর্থনীতিও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ট্রলার মালিক ও জেলে প্রতিনিধি হারুন খান, আল-আমিন কাডারু, নুরুল ইসলাম, সিদ্দিক ফকির, রুবেল বয়াতি, কামাল কাডারু, কামাল হাওলাদার, সেলিম আকন, নুরুল ইসলাম ফকির, তৈয়ব ফকির, রুবেল হাওলাদার, আলম ফকির, আল-আমিন জংলা, মিরাজ মাঝিসহ অর্ধশতাধিক জেলে ও ট্রলার মালিক।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৪ লিটার দেশীয় চোলাই মদ সহ একজন গ্রেফতার

রাক্ষুসে ট্রলিং বন্ধ না হলে জীবিকা টিকবে না—জেলেদের আহাজারি

আপডেট সময় : ০২:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

মোঃ হাবিবুল্লাহ খান রাব্বীঃ

বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আলীপুর মৎস্য বন্দর এলাকার জেলে ও ট্রলার মালিকরা। একই সঙ্গে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় উপকূলীয় জেলেদের জীবন-জীবিকা চরম সংকটে পড়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে মহিপুর প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধে সরকারের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেলেদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলাপাড়া ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মৃধা এবং কামাল মাঝি। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গভীর সমুদ্রে অবৈধ ট্রলিংয়ের কারণে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে। বেহুন্দি জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারে বিপুল পরিমাণ পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন হওয়ায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, আধুনিক ফিশ ফাইন্ডার, জিপিএস ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিছু প্রভাবশালী ট্রলিং বোট সমুদ্রে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। ফলে সাধারণ জেলেরা দিনের পর দিন সাগরে অবস্থান করেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছেন না। এতে তাদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাছের সংকটের কারণে বহু জেলে এনজিও ও বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত আয় না থাকায় সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক জেলে ইতোমধ্যে পেশা পরিবর্তন করে কাজের সন্ধানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন। খাদ্য, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষা ব্যয় বহন করাও অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

জেলেদের নেতারা বলেন, “রাক্ষুসে ট্রলিং বোটের কারণে সাধারণ জেলেরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে উপকূলীয় মৎস্যখাত ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে।” তারা তাদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে চরম হতাশা প্রকাশ করেন এবং জীবিকা রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অবৈধ ট্রলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, গভীর সমুদ্রে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, নিষিদ্ধ জাল জব্দ, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের প্রাণিজ আমিষের একটি বড় অংশ সামুদ্রিক মাছ থেকে আসে। তাই বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা না গেলে শুধু উপকূলীয় জেলেদের জীবন-জীবিকাই নয়, দেশের সুনীল অর্থনীতিও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ট্রলার মালিক ও জেলে প্রতিনিধি হারুন খান, আল-আমিন কাডারু, নুরুল ইসলাম, সিদ্দিক ফকির, রুবেল বয়াতি, কামাল কাডারু, কামাল হাওলাদার, সেলিম আকন, নুরুল ইসলাম ফকির, তৈয়ব ফকির, রুবেল হাওলাদার, আলম ফকির, আল-আমিন জংলা, মিরাজ মাঝিসহ অর্ধশতাধিক জেলে ও ট্রলার মালিক।