ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এইমাত্র পাওয়াঃ
আজকের শিরোনামঃ

কুয়াকাটা সমুদ্র তটে ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্যের মৃত বেলিন তিমি, চাঞ্চল্য উপকূলজুড়ে

  • আপডেট সময় : ০২:২১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৪১৭ বার পড়া হয়েছে

মহিপুর প্রতিনিধি:

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিশাল আকৃতির একটি মৃত তিমি ভেসে আসার ঘটনায় উপকূলজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যরা গভীর সমুদ্রে গিয়ে তিমিটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে তিমিটি ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে বেলিন (Baleen) প্রজাতির তিমি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিমিটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ ফুট।

সৈকতে কর্মরত ওয়াটার বাইক চালকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু। তিনি জানান, সংবাদ পাওয়ার পর একটি স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা তিমিটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান।

তিনি বলেন, “তিমিটি কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে ছিল। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ফুট। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রায় ৫ থেকে ৬ দিন আগে মারা গেছে। সাগরের স্রোত ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির কারণে তিমিটি তীরে পৌঁছাতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।”

এ বিষয়ে মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনেছি। আমাদের বিট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে তিমিটি প্রায় ৫ থেকে ৬ দিন আগে মারা গেছে। তবে শুধুমাত্র বাহ্যিক অবস্থা দেখে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, “জাহাজের ধাক্কা, মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়া, বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ, সামুদ্রিক দূষণ, খাদ্য সংকট, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে তিমিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে নেক্রোপসি (ময়নাতদন্ত) এবং বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।”

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা মৃত তিমিটিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ, নমুনা সংগ্রহ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার আওতায় এনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় পরিবেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে মাঝেমধ্যে মৃত ডলফিন ও তিমি ভেসে আসার ঘটনা ঘটলেও কুয়াকাটা উপকূলে এত বড় আকৃতির বেলিন তিমির মৃতদেহ ভেসে আসার ঘটনা বিরল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা মহিপুর না কুয়াকাটা  ⁉️ ‎দৃষ্টি আকর্ষণ ও ব্যবস্থা গ্রহণ ।।

কুয়াকাটা সমুদ্র তটে ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্যের মৃত বেলিন তিমি, চাঞ্চল্য উপকূলজুড়ে

আপডেট সময় : ০২:২১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

মহিপুর প্রতিনিধি:

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিশাল আকৃতির একটি মৃত তিমি ভেসে আসার ঘটনায় উপকূলজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যরা গভীর সমুদ্রে গিয়ে তিমিটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে তিমিটি ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে বেলিন (Baleen) প্রজাতির তিমি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিমিটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ ফুট।

সৈকতে কর্মরত ওয়াটার বাইক চালকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু। তিনি জানান, সংবাদ পাওয়ার পর একটি স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা তিমিটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান।

তিনি বলেন, “তিমিটি কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে ছিল। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ফুট। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রায় ৫ থেকে ৬ দিন আগে মারা গেছে। সাগরের স্রোত ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির কারণে তিমিটি তীরে পৌঁছাতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।”

এ বিষয়ে মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনেছি। আমাদের বিট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে তিমিটি প্রায় ৫ থেকে ৬ দিন আগে মারা গেছে। তবে শুধুমাত্র বাহ্যিক অবস্থা দেখে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, “জাহাজের ধাক্কা, মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়া, বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ, সামুদ্রিক দূষণ, খাদ্য সংকট, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে তিমিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে নেক্রোপসি (ময়নাতদন্ত) এবং বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।”

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা মৃত তিমিটিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ, নমুনা সংগ্রহ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার আওতায় এনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় পরিবেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে মাঝেমধ্যে মৃত ডলফিন ও তিমি ভেসে আসার ঘটনা ঘটলেও কুয়াকাটা উপকূলে এত বড় আকৃতির বেলিন তিমির মৃতদেহ ভেসে আসার ঘটনা বিরল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।