ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এইমাত্র পাওয়াঃ
Logo হারিচ হত্যা মামলায় ইউপি সদস্য জসিমকে আসামি করায় মানববন্ধন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি Logo মহিপুরে ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটালেন আওয়ামী নেতার ছেলে Logo জমি সংক্রান্ত বিরোধে বৃদ্ধ নিহত: নারায়ণগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার Logo অবৈধ ট্রলিং কি বৈধ হলো? মৎস্য কর্মচারীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক, আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন Logo মহিপুরে ‘রনি স্টোর’-এ দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকাসহ ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট Logo গলাচিপা থানা পুলিশ কর্তৃক ইয়াবাসহ ১ জন আসামী গ্রেফতার। Logo ৫০ পিচ টেপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রয়ের ২৪০০ টাকা সহ ০১ জন গ্রেফতার। Logo কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ২০ কেজির ‘সামুদ্রিক শোল’, ১৪ হাজারে বিক্রি Logo কুয়াকাটা সৈকতের বালুচরে ভেসে এলো বিরল সামুদ্রিক ‘ফাইলফিশ’ Logo কুয়াকাটায় হানিফ ফকির হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন, অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি
আজকের শিরোনামঃ
Logo হারিচ হত্যা মামলায় ইউপি সদস্য জসিমকে আসামি করায় মানববন্ধন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি Logo মহিপুরে ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটালেন আওয়ামী নেতার ছেলে Logo জমি সংক্রান্ত বিরোধে বৃদ্ধ নিহত: নারায়ণগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার Logo অবৈধ ট্রলিং কি বৈধ হলো? মৎস্য কর্মচারীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক, আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন Logo মহিপুরে ‘রনি স্টোর’-এ দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকাসহ ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট Logo গলাচিপা থানা পুলিশ কর্তৃক ইয়াবাসহ ১ জন আসামী গ্রেফতার। Logo ৫০ পিচ টেপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রয়ের ২৪০০ টাকা সহ ০১ জন গ্রেফতার। Logo কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ২০ কেজির ‘সামুদ্রিক শোল’, ১৪ হাজারে বিক্রি Logo কুয়াকাটা সৈকতের বালুচরে ভেসে এলো বিরল সামুদ্রিক ‘ফাইলফিশ’ Logo কুয়াকাটায় হানিফ ফকির হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন, অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

কুয়াকাটায় আশানুরূপ পর্যটক নেই, হতাশ পর্যটন ব্যবসায়ীরা

  • আপডেট সময় : ০২:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ হাবিবুল্লাহ খান রাব্বী।।

কুয়াকাটায় আশানুরূপ পর্যটক নেই। হতাশাগ্রস্থ পর্যটক নির্ভরশীল ব্যাবসায়ীরা। ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটায় ৩ থেকে ৪ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে—এমনটাই আশা করেছিলেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখে হোটেল-মোটেল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, রুম ভাড়ায় বিশেষ ছাড় ঘোষণা এবং পর্যটক বরণে ব্যাপক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও আশানুরূপ পর্যটক না আসায় চরম হতাশায় পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

আজ শুক্রবার (২৯ মে) ঈদের দ্বিতীয় দিন সরেজমিনে দেখা গেছে, বিগত বছরগুলোর ঈদ মৌসুমের তুলনায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত অনেকটাই ফাঁকা। সৈকতের জিরো পয়েন্ট, ছাতা-বেঞ্চ (কিটকট) এলাকা কিংবা গঙ্গামতির চরে নেই সেই চিরচেনা উপচে পড়া ভিড়।

যে অল্পসংখ্যক দর্শনার্থী সৈকতে এসেছেন, তাদের বেশিরভাগই আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা স্থানীয় ডে-ট্যুরিস্ট। তারা সকাল বা দুপুরে এসে বিকেলের মধ্যেই ফিরে যাচ্ছেন। ফলে আবাসিক হোটেলগুলোতে রাতযাপনের জন্য পর্যটকদের উপস্থিতি খুবই কম দেখা গেছে।

এদিকে পর্যটননির্ভর খাবার হোটেল, ঝিনুক মার্কেট, শুঁটকি পল্লী ও রাখাইন মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্রেতা সংকটে অলস সময় পার করছেন। পর্যটকের এমন খরা পুরো পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামীকাল থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং ঈদের ছুটিকে ঘিরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবেই মানুষ এবার ভ্রমণ বাজেট কাটছাঁট করেছে। ফলে দীর্ঘ ছুটি থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত পর্যটক সমাগম হয়নি। তাদের দাবি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও বাড়তি পারিবারিক খরচের চাপে অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। ব্যয় সংকোচনের এই প্রবণতা পর্যটন খাতে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন তারা।

হোটেল সারোয়ার প্যারাডাইসের ম্যানেজার রিপন সাব্বির বলেন, ‘অতীতে ঈদের ছুটিতে যেখানে তিল ধারণের ঠাঁই থাকত না, সেখানে এবার তেমন চাপ নেই। তবে আগামীকাল থেকে পর্যটক কিছুটা বাড়তে পারে।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, ‘বিগত কয়েক মাসের মন্দা কাটিয়ে এই দীর্ঘ ছুটিতে ভালো ব্যবসার আশা করেছিলাম। কিন্তু এবারের পর্যটক উপস্থিতি আমাদের চরম হতাশ করেছে। তারকা মানের ও প্রথম শ্রেণির কিছু হোটেলে মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রুম আগাম বুকিং হয়েছে। সাধারণ ও মাঝারি মানের হোটেলগুলোতে বুকিং হার ১০ থেকে ২০ শতাংশের বেশি নয়।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মোতালেব শরীফ বলেন, ‘আমাদের দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস বিপুল সংখ্যক পর্যটক বরণে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু ঈদের দ্বিতীয় দিনেও আশার সিকিভাগও পূরণ হয়নি। তবে আমরা এখনও আশাবাদী, সপ্তাহের শেষ দিকে পর্যটক বাড়তে পারে। যদি তা না হয়, তবে পেছনের লোকসান কাটিয়ে ওঠা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’

পৌর প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা এবং কোরবানি বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলেও সৈকতের এই ফাঁকা চিত্র পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের মুখে দুশ্চিন্তার রেখা ফুটিয়ে তুলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হারিচ হত্যা মামলায় ইউপি সদস্য জসিমকে আসামি করায় মানববন্ধন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি

কুয়াকাটায় আশানুরূপ পর্যটক নেই, হতাশ পর্যটন ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০২:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

মোঃ হাবিবুল্লাহ খান রাব্বী।।

কুয়াকাটায় আশানুরূপ পর্যটক নেই। হতাশাগ্রস্থ পর্যটক নির্ভরশীল ব্যাবসায়ীরা। ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটায় ৩ থেকে ৪ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে—এমনটাই আশা করেছিলেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখে হোটেল-মোটেল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, রুম ভাড়ায় বিশেষ ছাড় ঘোষণা এবং পর্যটক বরণে ব্যাপক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও আশানুরূপ পর্যটক না আসায় চরম হতাশায় পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

আজ শুক্রবার (২৯ মে) ঈদের দ্বিতীয় দিন সরেজমিনে দেখা গেছে, বিগত বছরগুলোর ঈদ মৌসুমের তুলনায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত অনেকটাই ফাঁকা। সৈকতের জিরো পয়েন্ট, ছাতা-বেঞ্চ (কিটকট) এলাকা কিংবা গঙ্গামতির চরে নেই সেই চিরচেনা উপচে পড়া ভিড়।

যে অল্পসংখ্যক দর্শনার্থী সৈকতে এসেছেন, তাদের বেশিরভাগই আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা স্থানীয় ডে-ট্যুরিস্ট। তারা সকাল বা দুপুরে এসে বিকেলের মধ্যেই ফিরে যাচ্ছেন। ফলে আবাসিক হোটেলগুলোতে রাতযাপনের জন্য পর্যটকদের উপস্থিতি খুবই কম দেখা গেছে।

এদিকে পর্যটননির্ভর খাবার হোটেল, ঝিনুক মার্কেট, শুঁটকি পল্লী ও রাখাইন মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্রেতা সংকটে অলস সময় পার করছেন। পর্যটকের এমন খরা পুরো পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামীকাল থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং ঈদের ছুটিকে ঘিরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবেই মানুষ এবার ভ্রমণ বাজেট কাটছাঁট করেছে। ফলে দীর্ঘ ছুটি থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত পর্যটক সমাগম হয়নি। তাদের দাবি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও বাড়তি পারিবারিক খরচের চাপে অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। ব্যয় সংকোচনের এই প্রবণতা পর্যটন খাতে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন তারা।

হোটেল সারোয়ার প্যারাডাইসের ম্যানেজার রিপন সাব্বির বলেন, ‘অতীতে ঈদের ছুটিতে যেখানে তিল ধারণের ঠাঁই থাকত না, সেখানে এবার তেমন চাপ নেই। তবে আগামীকাল থেকে পর্যটক কিছুটা বাড়তে পারে।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, ‘বিগত কয়েক মাসের মন্দা কাটিয়ে এই দীর্ঘ ছুটিতে ভালো ব্যবসার আশা করেছিলাম। কিন্তু এবারের পর্যটক উপস্থিতি আমাদের চরম হতাশ করেছে। তারকা মানের ও প্রথম শ্রেণির কিছু হোটেলে মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রুম আগাম বুকিং হয়েছে। সাধারণ ও মাঝারি মানের হোটেলগুলোতে বুকিং হার ১০ থেকে ২০ শতাংশের বেশি নয়।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মোতালেব শরীফ বলেন, ‘আমাদের দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস বিপুল সংখ্যক পর্যটক বরণে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু ঈদের দ্বিতীয় দিনেও আশার সিকিভাগও পূরণ হয়নি। তবে আমরা এখনও আশাবাদী, সপ্তাহের শেষ দিকে পর্যটক বাড়তে পারে। যদি তা না হয়, তবে পেছনের লোকসান কাটিয়ে ওঠা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’

পৌর প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা এবং কোরবানি বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলেও সৈকতের এই ফাঁকা চিত্র পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের মুখে দুশ্চিন্তার রেখা ফুটিয়ে তুলেছে।