মহিপুর প্রতিনিধি।।
মহিপুরে কোরবানির দাওয়াত দিতে গিয়ে আপন ছোট ভাইয়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির নাক ফেটে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে বলে পরিবার দাবি করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মহিপুর থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে অভিযুক্তের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তাউয়াব সরদার স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পারিবারিকভাবে কোরবানির দাওয়াত পৌঁছে দিতে বড় ভাইয়ের পক্ষ থেকে আউয়াল সরদারকে তাউয়াব সরদারের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পর দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাউয়াব সরদার ক্ষিপ্ত হয়ে আউয়ালের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
মারধরের ঘটনায় আউয়াল সরদারের নাক ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্বজনরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত আউয়াল সরদার বলেন, আমি দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার পর তাউয়াব সরদার আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে। একপর্যায়ে আমার নাকে ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তার বিভিন্ন আচরণে অতিষ্ঠ। এ ঘটনার বিচার চাই।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই খোকন সরদার বলেন, পারিবারিক দাওয়াত দিতে গিয়ে এমন ঘটনার শিকার হতে হবে, ভাবিনি। হঠাৎ করেই সে মারমুখী আচরণ শুরু করে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাউয়াব সরদার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, শালিস বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত তাউয়াব সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মহিপুর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মিজান প্যাদা বলেন, কেউ দলের পরিচয় ব্যবহার করে অন্যায় করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি অভিযোগ পলে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।









