ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এইমাত্র পাওয়াঃ
Logo মহিপুরে ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটালেন আওয়ামী নেতার ছেলে Logo জমি সংক্রান্ত বিরোধে বৃদ্ধ নিহত: নারায়ণগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার Logo অবৈধ ট্রলিং কি বৈধ হলো? মৎস্য কর্মচারীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক, আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন Logo মহিপুরে ‘রনি স্টোর’-এ দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকাসহ ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট Logo গলাচিপা থানা পুলিশ কর্তৃক ইয়াবাসহ ১ জন আসামী গ্রেফতার। Logo ৫০ পিচ টেপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রয়ের ২৪০০ টাকা সহ ০১ জন গ্রেফতার। Logo কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ২০ কেজির ‘সামুদ্রিক শোল’, ১৪ হাজারে বিক্রি Logo কুয়াকাটা সৈকতের বালুচরে ভেসে এলো বিরল সামুদ্রিক ‘ফাইলফিশ’ Logo কুয়াকাটায় হানিফ ফকির হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন, অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি Logo মহিপুরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন
আজকের শিরোনামঃ
Logo মহিপুরে ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটালেন আওয়ামী নেতার ছেলে Logo জমি সংক্রান্ত বিরোধে বৃদ্ধ নিহত: নারায়ণগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার Logo অবৈধ ট্রলিং কি বৈধ হলো? মৎস্য কর্মচারীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক, আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন Logo মহিপুরে ‘রনি স্টোর’-এ দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকাসহ ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট Logo গলাচিপা থানা পুলিশ কর্তৃক ইয়াবাসহ ১ জন আসামী গ্রেফতার। Logo ৫০ পিচ টেপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রয়ের ২৪০০ টাকা সহ ০১ জন গ্রেফতার। Logo কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ২০ কেজির ‘সামুদ্রিক শোল’, ১৪ হাজারে বিক্রি Logo কুয়াকাটা সৈকতের বালুচরে ভেসে এলো বিরল সামুদ্রিক ‘ফাইলফিশ’ Logo কুয়াকাটায় হানিফ ফকির হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন, অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি Logo মহিপুরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

ঢাকার হাটে ১৮ মণের ‘ভয়ংকর’ ও ১৭ মণের ‘বাদশা বাবু’ বিক্রি হয়নি

  • আপডেট সময় : ১২:৫১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • ৪৮৮ বার পড়া হয়েছে

মাইনুদ্দিন আল আতিক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):

চার বছর ধরে সন্তানের মতো লালন-পালন। প্রতিদিনের যত্ন, বিশেষ খাবার, নিয়মিত পরিচর্যা—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুটি বিশালাকৃতির ষাঁড়, ‘ভয়ংকর’ ও ‘বাদশা বাবু’। কিন্তু ঈদুল আজহার সবচেয়ে বড় আশা নিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই ঢাকার পশুর হাট থেকে বাড়ি ফিরতে হয়েছে খামারি ইব্রাহিম হাওলাদারকে।

পটুয়াখালীর মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের নিজ শিববাড়িয়া গ্রামের গাববাড়িয়া স্লুইসগেটসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা তার খামারে এখন ঈদের আনন্দের বদলে নেমে এসেছে বিষণ্ণতা।

খামার সূত্রে জানা গেছে, ফ্রিজিয়ান জাতের প্রায় ১৮ মণ ওজনের ‘ভয়ংকর’-এর দাম চাওয়া হয়েছিল ৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে শাহিওয়াল জাতের প্রায় ১৭ মণ ওজনের ‘বাদশা বাবু’-এর মূল্য ধরা হয়েছিল ৭ লাখ টাকা। দুইটি মিলিয়ে মোট দাম চাওয়া হয় ১৬ লাখ টাকা।

খামারি ইব্রাহিম হাওলাদার জানান, চার বছরে শুধু খাবার, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। ভালো দামের আশায় ধার-দেনা করে গরু দুটি ট্রাকে করে ঢাকার হাটে নেওয়া হলেও সেখানে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা মেলেনি।

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গরু দুটিকে আমরা পরিবারের সদস্যের মতো বড় করেছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার—ভুট্টার সাইলেস, কাঁচা ঘাস, খড় ও ভুষি খাইয়ে লালন করেছি। কিন্তু বাজারে যে দাম বলা হয়েছে, তাতে মূলধনই উঠত না। তাই লোকসান মেনে বিক্রি না করে আবার খামারে ফিরিয়ে এনেছি।’

খামারের কর্মচারী সোলায়মান খান বলেন, ‘দিন-রাত পরিশ্রম করে গরু দুটিকে বড় করেছি। নিয়মিত গোসল, পরিচর্যা, খাবার—সবকিছুর পেছনে অনেক শ্রম গেছে। এখন মনে হচ্ছে পুরো পরিশ্রমটাই যেন বৃথা।’

ঢাকা থেকে বিশাল আকৃতির ষাঁড় দুটি ফেরত এসেছে—এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই আজ সকাল থেকে স্থানীয় মানুষের ভিড় বাড়ছে খামারে। অনেকে গরু দুটির সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ খামারির দুর্দশায় সহানুভূতি জানাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব সরদার ও সাইদুর রহমান বলেন, ‘গরু দুটি আমাদের এলাকার গর্ব। খামারি ইব্রাহিম অনেক কষ্ট করেছেন। কিন্তু বাজার পরিস্থিতির কারণে তিনি ন্যায্য দাম পেলেন না, এটা খুবই কষ্টের।’

গরু দুটির তদারকিতে থাকা পশু চিকিৎসক আহসান হাবিব জানান, ‘ষাঁড় দুটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও প্রাকৃতিক উপায়ে লালিত। তবে এ বছর বড় গরুর বাজার কিছুটা মন্দা। সেই কারণে হয়তো কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যায়নি।’

দেশজুড়ে যখন কুরবানির আনন্দ, তখন মহিপুরের এই প্রান্তিক খামারির চোখে এখন ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। ধার-দেনার চাপ আর বিশালাকৃতির দুই ষাঁড়ের ভরণপোষণের চিন্তাই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার কাছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহিপুরে ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটালেন আওয়ামী নেতার ছেলে

ঢাকার হাটে ১৮ মণের ‘ভয়ংকর’ ও ১৭ মণের ‘বাদশা বাবু’ বিক্রি হয়নি

আপডেট সময় : ১২:৫১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

মাইনুদ্দিন আল আতিক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):

চার বছর ধরে সন্তানের মতো লালন-পালন। প্রতিদিনের যত্ন, বিশেষ খাবার, নিয়মিত পরিচর্যা—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুটি বিশালাকৃতির ষাঁড়, ‘ভয়ংকর’ ও ‘বাদশা বাবু’। কিন্তু ঈদুল আজহার সবচেয়ে বড় আশা নিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই ঢাকার পশুর হাট থেকে বাড়ি ফিরতে হয়েছে খামারি ইব্রাহিম হাওলাদারকে।

পটুয়াখালীর মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের নিজ শিববাড়িয়া গ্রামের গাববাড়িয়া স্লুইসগেটসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা তার খামারে এখন ঈদের আনন্দের বদলে নেমে এসেছে বিষণ্ণতা।

খামার সূত্রে জানা গেছে, ফ্রিজিয়ান জাতের প্রায় ১৮ মণ ওজনের ‘ভয়ংকর’-এর দাম চাওয়া হয়েছিল ৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে শাহিওয়াল জাতের প্রায় ১৭ মণ ওজনের ‘বাদশা বাবু’-এর মূল্য ধরা হয়েছিল ৭ লাখ টাকা। দুইটি মিলিয়ে মোট দাম চাওয়া হয় ১৬ লাখ টাকা।

খামারি ইব্রাহিম হাওলাদার জানান, চার বছরে শুধু খাবার, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। ভালো দামের আশায় ধার-দেনা করে গরু দুটি ট্রাকে করে ঢাকার হাটে নেওয়া হলেও সেখানে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা মেলেনি।

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গরু দুটিকে আমরা পরিবারের সদস্যের মতো বড় করেছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার—ভুট্টার সাইলেস, কাঁচা ঘাস, খড় ও ভুষি খাইয়ে লালন করেছি। কিন্তু বাজারে যে দাম বলা হয়েছে, তাতে মূলধনই উঠত না। তাই লোকসান মেনে বিক্রি না করে আবার খামারে ফিরিয়ে এনেছি।’

খামারের কর্মচারী সোলায়মান খান বলেন, ‘দিন-রাত পরিশ্রম করে গরু দুটিকে বড় করেছি। নিয়মিত গোসল, পরিচর্যা, খাবার—সবকিছুর পেছনে অনেক শ্রম গেছে। এখন মনে হচ্ছে পুরো পরিশ্রমটাই যেন বৃথা।’

ঢাকা থেকে বিশাল আকৃতির ষাঁড় দুটি ফেরত এসেছে—এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই আজ সকাল থেকে স্থানীয় মানুষের ভিড় বাড়ছে খামারে। অনেকে গরু দুটির সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ খামারির দুর্দশায় সহানুভূতি জানাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব সরদার ও সাইদুর রহমান বলেন, ‘গরু দুটি আমাদের এলাকার গর্ব। খামারি ইব্রাহিম অনেক কষ্ট করেছেন। কিন্তু বাজার পরিস্থিতির কারণে তিনি ন্যায্য দাম পেলেন না, এটা খুবই কষ্টের।’

গরু দুটির তদারকিতে থাকা পশু চিকিৎসক আহসান হাবিব জানান, ‘ষাঁড় দুটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও প্রাকৃতিক উপায়ে লালিত। তবে এ বছর বড় গরুর বাজার কিছুটা মন্দা। সেই কারণে হয়তো কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যায়নি।’

দেশজুড়ে যখন কুরবানির আনন্দ, তখন মহিপুরের এই প্রান্তিক খামারির চোখে এখন ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। ধার-দেনার চাপ আর বিশালাকৃতির দুই ষাঁড়ের ভরণপোষণের চিন্তাই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার কাছে।