ঢাকাSaturday , 19 December 2020
  1. blog
  2. dating
  3. Mail Order Brides
  4. Online dating
  5. অপরাধ
  6. আইন আদালত
  7. আন্তর্জাতিক খবর
  8. আবহাওয়া
  9. ইসলাম
  10. কুয়াকাটা এক্সক্লুসিভ
  11. খেলাধুলা
  12. জনদুর্ভোগ
  13. জাতীয়
  14. জেলার খবর
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিপর্যয়ের শঙ্কা পাটপণ্য রপ্তানিতে

rabbi
December 19, 2020 12:19 pm
Link Copied!

অনলাইন ডেক্স:

কাঁচা পাটের দাম মণপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা ছুঁয়েছে। তাতে স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে উৎপাদন খরচ। এতে রপ্তানি ক্রয়াদেশ আসার গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। তাই কাঁচা পাটের দাম না কমলে আগামী মাসগুলোতে পাটপণ্যের রপ্তানি ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

পাটকলমালিক, পাটপণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারকেরা বলছেন, কাঁচা পাটের অত্যধিক দামের কারণে পাটপণ্যের চাহিদা কমছে। ক্রেতাদের কেউ কেউ বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। এ কারণে কিছু ছোট পাটকল বন্ধ হয়েছে। মাঝারি আকারের পাটকলগুলো বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পুরো খাতটিতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুলাইয়ে কাঁচা পাট বিক্রির মৌসুমের শুরুতে মণপ্রতি দাম ছিল ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। দুই মাসের মধ্যে তা বেড়ে আড়াই হাজার টাকা হয়। বর্তমানে প্রতি মণ কাঁচা পাট ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এ সময়ে প্রতি মণ কাঁচা পাটের দাম উঠেছিল সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকায়।বিজ্ঞাপন

কাঁচা পাটের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে আমরা গিয়েছি। কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে বাজারের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারি, চেয়ারম্যান, বিজেএমএ

ফরিদপুরের কানাইপুরের পাট ব্যবসায়ী খোকন মাতবর গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় বাজারে ভালো মানের তোষা পাট ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আর নিম্নমানের পাট বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ২ হাজার ৬০০ টাকায়।

কাঁচা পাটের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ও বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) নেতারা দাবি করছেন, প্রতিবছর দেশে গড়ে ৭৫ লাখ বেল কাঁচা পাট উৎপাদিত হয়। সেখানে চলতি বছর উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৫৫ লাখ বেল। অথচ দেশের পাটশিল্পের জন্যই প্রয়োজন হবে ৬০ লাখ বেল কাঁচা পাট। আর গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য লাগবে ৫ লাখ বেল।

অবশ্য পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানির চেহারা দেখলে মনে হবে না খাতটিতে কোনো সমস্যা আছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ৫৫ কোটি ডলারের পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ বেশি। গত জুলাই থেকে নভেম্বরে পাটের সুতা রপ্তানিতে ৪৯ এবং পাটের বস্তা রপ্তানিতে ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।আরও পড়ুনভারতে পাটপণ্য রপ্তানি কমবে!

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাটপণ্য রপ্তানিকারক সমিতির (বিজেজিইএ) চেয়ারম্যান এম সাজ্জাদ হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, কাঁচা পাটের দাম ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তাতে প্রস্তুত পণ্যের দামও বেড়েছে ২৫-৩০ শতাংশ। কাঁচা পাটের অত্যধিক দামের কারণে প্রস্তুত পাটপণ্যের চাহিদা কমে গেছে। ক্রেতারা পণ্যের ক্রয়াদেশ দেওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। পাটের বস্তা ও চটের চাহিদা দ্রুত কমলেও সুতার চাহিদা কিছুটা ধীরে কমছে।

উদাহরণ দিয়ে বিজেজিইএর চেয়ারম্যান বলেন, গত মাসে একটি পাটের বস্তা ১ ডলার ১৫ সেন্টে রপ্তানি হয়েছে। অথচ বর্তমানে ১ ডলার দাম পাওয়াই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। রপ্তানিকারকেরা এখনো না লাভ, না লোকসান—এমন পর্যায়ে পাটপণ্য রপ্তানি করছেন। কাঁচা পাটের দাম আর এক সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকলেই লোকসানের হিসাব কষতে হবে ব্যবসায়ীদের।

দেশে বেসরকারি পাটকলের সংখ্যা ২৫৯। যদিও লোকসানে নিমজ্জিত ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল গত জুলাইয়ে বন্ধ করে দেয় সরকার। এর বাইরে ছোট-মাঝারি অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন করে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। বাংলাদেশ থেকে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়।

বহুমুখী পাটপণ্যের বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাশেদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, কাঁচা পাটের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় বড় ক্রয়াদেশ নিতে সাহস পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। বহুমুখী পাটপণ্যের মধ্যে যেগুলোতে পাটের ব্যবহার কম, সেগুলোতে সমস্যা হচ্ছে না। তবে যেসব পণ্যে পাটের ব্যবহার বেশি, সেগুলোর উৎপাদন খরচ বেড়েছে।বিজ্ঞাপন

দেশে বেসরকারি পাটকলের সংখ্যা ২৫৯। যদিও লোকসানে নিমজ্জিত ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল গত জুলাইয়ে বন্ধ করে দেয় সরকার। এর বাইরে ছোট-মাঝারি অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন করে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। বাংলাদেশ থেকে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়।

দাম বাড়তে শুরু করলে গত সেপ্টেম্বরে এক বছরের জন্য দেশ থেকে কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন বেসরকারি পাটকলমালিকেরা। কাঁচা পাটের ওপর টনপ্রতি ২৫০ মার্কিন ডলার রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা এবং আনকাট, বাংলা তোষা রিজেকশন (বিটিআর) ও বাংলা হোয়াইট রিজেকশন (বিডব্লিউআর) পাট রপ্তানি বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।

অবশ্য গত তিন মাসে ভারতে কাঁচা পাট রপ্তানি অনেকটাই কমে গেছে। এমনকি বাংলাদেশের চেয়ে বর্তমানে কম দামে ভারতে কাঁচা পাট বিক্রি হচ্ছে। দেশটির সরকারি বিধিনিষেধের কারণে ফড়িয়ারা পাট মজুত করতে না পারায় এমনটি হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।

সরকারি পাটকল বন্ধ হওয়ায় কাঁচা পাট কেনায় বেসরকারি পাটকলমালিকেরা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবেন। এমনটি মনে করা হলেও উল্টো ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন বিজেএমএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাড়তি দামে পাট কিনতে গিয়ে অনেকের মূলধনে টান পড়েছে। ছোট কারখানা বন্ধ হচ্ছে। মাঝারি কারখানার উৎপাদন অর্ধেক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘কাঁচা পাটের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে আমরা গিয়েছি। কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে বাজারের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
x