আজ সেই শোকাবহ দিন। ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই, যেদিন কবি ও সাংবাদিক এস. এম. সালাম রেজা আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে না-ফেরার দেশে চলে গিয়েছিলেন। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে নয়টি বছর, কিন্তু তাঁর শূন্যতা আজও আমাদের হৃদয়ে, আমাদের উপকূলে গভীরভাবে অনুভূত হয়।
‘রক্তাক্ত মেঘ ও রাজকন্যা’ কাব্যগ্রন্থের প্রণেতা এস. এম. সালাম রেজা ছিলেন একজন চেতনার কবি। তাঁর কলম ছিল প্রতিবাদের ভাষা, সত্যের পক্ষে এক নির্ভীক উচ্চারণ। সমাজের নির্যাতিত, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের কথা তিনি লিখেছেন সাহসের সঙ্গে। তাঁর প্রতিটি লেখা পাঠকের বিবেককে নাড়া দিত, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করত।
সাংবাদিকতার অঙ্গনেও তিনি ছিলেন একজন অকুতোভয় সৈনিক। তিনি মহিপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, পুরুষ নির্যাতন আইন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক, কবি সংসদ বাংলাদেশ, পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি এবং মাই টিভির উপকূলীয় প্রতিনিধি হিসেবে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সাহস, সততা ও নির্ভীক উচ্চারণ আজও সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
আমার সাংবাদিকতা জীবনের অনুপ্রেরণার অন্যতম মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর উৎসাহ, ভালোবাসা ও আন্তরিক দিকনির্দেশনা আমাকে এই পেশায় এগিয়ে চলার সাহস জুগিয়েছিল। তাঁর স্নেহমাখা কথাগুলো আজও আমার পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, সময়ের স্রোতে আমরা যেন ধীরে ধীরে তাঁর মতো একজন গুণী মানুষকে ভুলে যেতে বসেছি। অথচ তাঁর কর্ম, আদর্শ ও লেখনী আমাদের সমাজে সত্য, ন্যায় ও মানবতার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে। এমন মানুষ কখনো হারিয়ে যান না—তাঁরা বেঁচে থাকেন তাঁদের কর্মে, সাহসে এবং মানুষের ভালোবাসায়।
আজ তাঁর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকীতে মহান আল্লাহর দরবারে বিনম্র প্রার্থনা—আল্লাহ তাআলা মরহুম এস. এম. সালাম রেজা-কে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন এবং তাঁর সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন।
🤲 সবাই তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করবেন।



















