মহিপুর প্রতিনিধিঃ
কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানাধীন চর গংগামতি এলাকায় সরকারি খাস জমিতে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে পাকা দোকানঘর নির্মাণের দায়ে মো. নুরুজ্জামান (৩২) নামের এক যুবককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বুধবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে চর গংগামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গংগামতি ও কাউয়ার চরের বেড়িবাঁধের বাইরের জমি সরকারি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ২০১৩ সালের গেজেট এবং হাইকোর্টের রিট পিটিশন নম্বর ৫১৬২/২০১১-এর রায় অনুযায়ী এসব জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন ওই জমিতে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে পাকা দোকানঘর নির্মাণ করেন নুরুজ্জামান। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে অভিযান চালানো হয়। পরে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১১ ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১১ ধারায় এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত নুরুজ্জামানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাঁকে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গংগামতি-কাউয়ার চরের বেড়িবাঁধের বাইরের জমি পর্যটন ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব সরকারি জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন জমিতে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।




















