ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এইমাত্র পাওয়াঃ
Logo এক জালেই ৪৬ মণ ইলিশ, মহিপুরে বিক্রি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় Logo কুয়াকাটায় তুলাতলী লায়ন স্পোর্টিং ক্লাবের শতাধিক বৃক্ষরোপণ Logo ১০ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার বড় চরকাজল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেহেদী মোল্লা  Logo কুয়াকাটায় প্রায় দেড় মণ ওজনের বিশাল তবল মাছ জেলের জালে ধরা  Logo পটুয়াখালী ডিবি পুলিশের অভিযানে ১০০ (একশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার। Logo ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই, যেদিন কবি ও সাংবাদিক এস. এম. সালাম রেজা আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে না-ফেরার দেশে চলে গিয়েছিলেন Logo কুয়াকাটায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলা: গ্রেপ্তার ২ Logo হারিচ হত্যা মামলায় ইউপি সদস্য জসিমকে আসামি করায় মানববন্ধন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি Logo মহিপুরে ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটালেন আওয়ামী নেতার ছেলে Logo জমি সংক্রান্ত বিরোধে বৃদ্ধ নিহত: নারায়ণগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার
আজকের শিরোনামঃ
Logo এক জালেই ৪৬ মণ ইলিশ, মহিপুরে বিক্রি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় Logo কুয়াকাটায় তুলাতলী লায়ন স্পোর্টিং ক্লাবের শতাধিক বৃক্ষরোপণ Logo ১০ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার বড় চরকাজল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেহেদী মোল্লা  Logo কুয়াকাটায় প্রায় দেড় মণ ওজনের বিশাল তবল মাছ জেলের জালে ধরা  Logo পটুয়াখালী ডিবি পুলিশের অভিযানে ১০০ (একশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার। Logo ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই, যেদিন কবি ও সাংবাদিক এস. এম. সালাম রেজা আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে না-ফেরার দেশে চলে গিয়েছিলেন Logo কুয়াকাটায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলা: গ্রেপ্তার ২ Logo হারিচ হত্যা মামলায় ইউপি সদস্য জসিমকে আসামি করায় মানববন্ধন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি Logo মহিপুরে ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটালেন আওয়ামী নেতার ছেলে Logo জমি সংক্রান্ত বিরোধে বৃদ্ধ নিহত: নারায়ণগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার

এক জালেই ৪৬ মণ ইলিশ, মহিপুরে বিক্রি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়

  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪১৪ বার পড়া হয়েছে

কুয়াকাটা প্রতিনিধি।।

কাঙ্ক্ষিত ইলিশের আশায় দিনের পর দিন সাগরে জাল ফেলেও হতাশ হচ্ছিলেন জেলেরা। এরই মধ্যে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলারে একবার জাল ফেলতেই ধরা পড়েছে প্রায় ২ হাজার ২০০ পিস ইলিশ। সব মিলিয়ে মাছের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ মণ। পরে এসব ইলিশ মহিপুর মৎস্য বন্দরে এনে বিক্রি করা হয় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ইলিশবোঝাই এফবি জুনাইদ ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে পুরো চালানটি বিক্রি করা হয়।

ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে মাছ ধরছিলেন তারা। ওই সময় ট্রলারের মাঝি আলমগীরের নেতৃত্বে জাল ফেললে একবারেই বিপুলসংখ্যক ইলিশ উঠে আসে। পরে মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে মহিপুর বন্দরে নিয়ে আসা হয়।

আড়ত সূত্র জানায়, মোট ৪৬ মণ ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের মাছ ছিল ২৪ মণ। এগুলো প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে ২৪ মণ ইলিশের দাম দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

অপরদিকে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ছিল ২২ মণ। এসব মাছ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। দুই শ্রেণির মাছ মিলিয়ে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এফবি জুনাইদ ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় ইলিশের চালান পেয়েছেন তারা। একবার জাল ফেলেই প্রায় ২ হাজার ২০০ পিস মাছ পাওয়ায় দীর্ঘদিনের লোকসানের পর তারা স্বস্তি পেয়েছেন।

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, অনেক দিন পর মহিপুর বন্দরে এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বাজারে ইলিশের দামও তুলনামূলক বেশি থাকায় জেলেরা ভালো দাম পেয়েছেন। একই সঙ্গে এত বড় আকারের ইলিশের বড় চালান সচরাচর পাওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলারে প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে না। সেই পরিস্থিতিতে একটি ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়া অবশ্যই জেলেদের জন্য আশাব্যঞ্জক খবর।

তবে একদিনের বড় একটি আহরণকে পুরো সাগরে ইলিশের প্রাচুর্যের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইলিশের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা, জেলেদের সচেতন করা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের সংকট ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে তুলনামূলক বেশি ইলিশ উঠছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও ভালো ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলে, আড়তদারসহ মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িত সবাই উপকৃত হবেন।

একটি ট্রলারে একবার জাল ফেলেই ৪৬ মণ ইলিশ পাওয়ার ঘটনায় উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে এবার সাগরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলবে—এমন প্রত্যাশায় বুক বাঁধছেন তারা।

হাফিজুর রহমান আকাশ
কুয়াকাটা পটুয়াখালী প্রতিনিধি
০১৭১৫৪৩৩৩১৭

এক জালেই ৪৬ মণ ইলিশ, মহিপুরে বিক্রি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়

এক জালেই ৪৬ মণ ইলিশ, মহিপুরে বিক্রি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

কুয়াকাটা প্রতিনিধি।।

কাঙ্ক্ষিত ইলিশের আশায় দিনের পর দিন সাগরে জাল ফেলেও হতাশ হচ্ছিলেন জেলেরা। এরই মধ্যে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলারে একবার জাল ফেলতেই ধরা পড়েছে প্রায় ২ হাজার ২০০ পিস ইলিশ। সব মিলিয়ে মাছের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ মণ। পরে এসব ইলিশ মহিপুর মৎস্য বন্দরে এনে বিক্রি করা হয় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ইলিশবোঝাই এফবি জুনাইদ ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে পুরো চালানটি বিক্রি করা হয়।

ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে মাছ ধরছিলেন তারা। ওই সময় ট্রলারের মাঝি আলমগীরের নেতৃত্বে জাল ফেললে একবারেই বিপুলসংখ্যক ইলিশ উঠে আসে। পরে মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে মহিপুর বন্দরে নিয়ে আসা হয়।

আড়ত সূত্র জানায়, মোট ৪৬ মণ ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের মাছ ছিল ২৪ মণ। এগুলো প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে ২৪ মণ ইলিশের দাম দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

অপরদিকে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ছিল ২২ মণ। এসব মাছ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। দুই শ্রেণির মাছ মিলিয়ে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এফবি জুনাইদ ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় ইলিশের চালান পেয়েছেন তারা। একবার জাল ফেলেই প্রায় ২ হাজার ২০০ পিস মাছ পাওয়ায় দীর্ঘদিনের লোকসানের পর তারা স্বস্তি পেয়েছেন।

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, অনেক দিন পর মহিপুর বন্দরে এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বাজারে ইলিশের দামও তুলনামূলক বেশি থাকায় জেলেরা ভালো দাম পেয়েছেন। একই সঙ্গে এত বড় আকারের ইলিশের বড় চালান সচরাচর পাওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলারে প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে না। সেই পরিস্থিতিতে একটি ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়া অবশ্যই জেলেদের জন্য আশাব্যঞ্জক খবর।

তবে একদিনের বড় একটি আহরণকে পুরো সাগরে ইলিশের প্রাচুর্যের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইলিশের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা, জেলেদের সচেতন করা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের সংকট ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে তুলনামূলক বেশি ইলিশ উঠছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও ভালো ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলে, আড়তদারসহ মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িত সবাই উপকৃত হবেন।

একটি ট্রলারে একবার জাল ফেলেই ৪৬ মণ ইলিশ পাওয়ার ঘটনায় উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে এবার সাগরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলবে—এমন প্রত্যাশায় বুক বাঁধছেন তারা।

হাফিজুর রহমান আকাশ
কুয়াকাটা পটুয়াখালী প্রতিনিধি
০১৭১৫৪৩৩৩১৭