মোঃ হাবিবুল্লাহ খান রাব্বীঃ
পটুয়াখালীর মৎস্য অবতারণ কেন্দ্র মহিপুর-আলীপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে দেখা দিয়েছে তীব্র বরফ সংকট। প্রতিনিয়ত ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেকটা কম হওয়ায় দ্বিগুণ বেড়েছে বরফের দাম। ১৫০ টাকার বরফের ক্যান বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। তারপরও পাওয়া যাচ্ছে না বরফ। তাই বরফ সংকটে মাছ শিকারে যেতে পারছে না শত শত মাছধরা ট্রলার। ইলিশের ভরা মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও গত এক সপ্তাহ ধরে বরফের অভাবে সাগরে যেতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলেসহ মৎস্যসংশ্লিষ্টরা। তাঁরা মৎস্য বন্দরগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
জেলে আবদুর রহিম মিয়া বলেন, “আগে বিদ্যুৎ ভালো ছিল, এখন বিদ্যুৎ প্রায়ই থাকে না, বরফও তৈরি কম হয়। তার সাথে ১৫০ টাকার বরফ ৩ শ টাকায় বিক্রি করে। আমরা জেলেরা সাগরে যেতে পারছি না।”
ট্রলার মালিক সুমন মিয়া জানান, “এক তো সাগরে তেমন মাছ পড়ে না, তার ওপর জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে সাগরে যাব, তাও বরফের অভাবে যেতে পারছি না। জেলেরা ঘাটে বসে বসে খাচ্ছে। সঠিকভাবে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।”
মহিপুর গাজী আইস প্লান্টের সত্তাধিকারী মো. মজনু গাজী বলেন, “২৪ ঘণ্টায় ১২-১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে, তাতে বরফকলে বরফ উৎপাদনে ব্যাহত হচ্ছে। জেনারেটর দিয়ে বরফ উৎপাদন করায় খরচ বেশি হয়, তাই বরফের দামও আগের চেয়ে বৃদ্ধি। বরফ উৎপাদন কম হওয়ায় শত শত মাছধরা ট্রলার মহিপুর-আলীপুর ঘাটে বসে আছে। আমরা সরকারের কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাই।”
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “বিদ্যুতের সমস্যা দেশব্যাপী। তারপরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করেছি, দেখি মৎস্য বন্দরে আপাতত ভিন্নভাবে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা। আর বরফের রেটের ব্যাপারটা একটু বৃদ্ধি, তাও ভোক্তা অধিকারের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব।”
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বরফ তৈরিতে সমস্যা হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের সাথে আলোচনা করে মৎস্য বন্দরের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা (দেখব)। এখন বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর দিয়ে বরফ তৈরি হচ্ছে, তাই একটু দাম বৃদ্ধি, তাও আমরা দেখতেছি এই সুযোগে আবার খুব বেশি যেন না নেয়।”










