মহিপুর প্রতিনিধি।।
কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৫টায় মহিপুর প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. কামরুল হাসান নিজেকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) দাবি করে তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শহিদুল ইসলাম একটি লিখিত বক্তব্যে তাকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা সঠিক নয়। তিনি ২০১৮ সালে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং প্রায় আট বছর ধরে সেখানে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান।
কামরুল হাসান দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুনামের সঙ্গে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা অপকর্মের অভিযোগ নেই।
বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত মালামাল বিদ্যালয়ের মাঠে পড়ে থাকা এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট দালিলিক প্রমাণ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়েও বক্তব্য দেন কামরুল হাসান। তিনি বলেন, অভিযোগকারী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে এবং মহিপুর থানা ও উপজেলার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আদালতে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তীতে অভিযোগকারী মামলা প্রত্যাহার করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
২০২৪ সালের ১৪ আগস্টের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলাটিকেও মিথ্যা ও মানহানিকর বলে দাবি করেন কামরুল হাসান। তিনি জানান, মামলা পরিচালনার প্রয়োজনে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তিনি পূর্বানুমোদিত ছুটি নিয়েছিলেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে সরকারি ছুটির দিনে আদালতের তারিখ থাকায় তার আলাদা ছুটি নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি বলেও জানান তিনি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। কামরুল হাসান বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয় মহিপুর ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি তার অনুমোদিত ছুটির যাবতীয় প্রমাণাদি দাখিল করেছেন।
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি এসব অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তবে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগকারী শহিদুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও করা হয়। কামরুল হাসান দাবি করেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি ও মানহানির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুল হাসান তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে তাকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় না করার আহ্বান জানান।












