কুয়াকাটা প্রতিনিধি।
‘প্রতিটি ঘরে একটি গাছ, নির্মল হোক পৃথিবীর বাতাস’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারের ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শতাধিক গাছের চারা রোপণ করেছে সামাজিক সংগঠন তুলাতলী লায়ন স্পোর্টিং ক্লাব।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. কিশলয় সাহা। পরে হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
সংগঠনটির সদস্যরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় প্রায় শতাধিক গাছের চারা রোপণ করা হয়। এর মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, কদম, রাধাকৃষ্ণ, অর্জুন, চালতাসহ বিভিন্ন ফলজ, ফুলজ ও ঔষধি গাছের চারা রয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কে এম জুলকার নাইমের নেতৃত্বে অংশ নেন সহসভাপতি হাসান সিকদার রিমু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ মাহমুদ, অর্থ সম্পাদক আল আমিন আকন এবং সদস্য মো. রহিম, মো. মাইনুল, মো. জাহিদ, মো. সোহাগসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
সাধারণ সম্পাদক কে এম জুলকার নাইম বলেন, “একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সবুজ করে না, মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আমরা শুধু আজকের কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না, ভবিষ্যতেও নিয়মিত বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার উদ্যোগ অব্যাহত রাখব।”
সংগঠনটির সভাপতি মো. বেলাল খান মুঠোফোনে বলেন, “ব্যক্তিগত কাজে কুয়াকাটার বাইরে থাকায় আজকের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে না পারায় আমি দুঃখিত। আমাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিয়মিত বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. কিশলয় সাহা বলেন, “বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ। পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক সংগঠনগুলোর এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, তুলাতলী লায়ন স্পোর্টিং ক্লাব ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সমাজসেবা, মানবিক সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির সব কার্যক্রম সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় সামাজিক সংগঠনগুলোর বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।










