ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটায় বেরিবাঁধের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ৪২১ বার পড়া হয়েছে

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

কুয়াকাটায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে উপকূল রক্ষা বাঁধ (বেরিবাঁধ) দখল করে একাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহিপুর থানাধীন ধুলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি এলাকার ধোলাই মার্কেট সংলগ্ন বেরিবাঁধের ওপর একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া এর পাশেই কাঠ ও টিন দিয়ে আরও কয়েকটি স্থাপনার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণাধীন এসব স্থাপনার চারপাশে কাঠের ফ্রেম, টিনের বেড়া ও নির্মাণসামগ্রী দেখা যায়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বাঁধের ওপর এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। দুর্যোগের সময় এই বাঁধ পুরো এলাকাকে রক্ষা করে। এভাবে বাঁধের ওপর অবৈধ দখলদারিত্ব চলতে থাকলে মূল বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে একদিকে সরকারি সম্পত্তি বেহাত হচ্ছে, অন্যদিকে জননিরাপত্তাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

তাদের অভিযোগ, ধুলাসার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, স্থানীয় রাকিব এবং সাইফুল জোয়াদ্দারসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সরাসরি এই অবৈধ দখল ও নির্মাণকাজের সাথে জড়িত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ধুলাসার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘বেরিবাঁধের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

এদিকে ঘটনার অপর দুই অভিযুক্ত রাকিব ও সাইফুল জোয়াদ্দারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘জমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রিক্যুইজিশন দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলমকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার অন্যতম প্রধান সুরক্ষা ব্যবস্থা উপকূল রক্ষা বাঁধ (বেরিবাঁধ) দখল ও এর ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটায় বেরিবাঁধের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:২৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

কুয়াকাটায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে উপকূল রক্ষা বাঁধ (বেরিবাঁধ) দখল করে একাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহিপুর থানাধীন ধুলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি এলাকার ধোলাই মার্কেট সংলগ্ন বেরিবাঁধের ওপর একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া এর পাশেই কাঠ ও টিন দিয়ে আরও কয়েকটি স্থাপনার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণাধীন এসব স্থাপনার চারপাশে কাঠের ফ্রেম, টিনের বেড়া ও নির্মাণসামগ্রী দেখা যায়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বাঁধের ওপর এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। দুর্যোগের সময় এই বাঁধ পুরো এলাকাকে রক্ষা করে। এভাবে বাঁধের ওপর অবৈধ দখলদারিত্ব চলতে থাকলে মূল বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে একদিকে সরকারি সম্পত্তি বেহাত হচ্ছে, অন্যদিকে জননিরাপত্তাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

তাদের অভিযোগ, ধুলাসার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, স্থানীয় রাকিব এবং সাইফুল জোয়াদ্দারসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সরাসরি এই অবৈধ দখল ও নির্মাণকাজের সাথে জড়িত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ধুলাসার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘বেরিবাঁধের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

এদিকে ঘটনার অপর দুই অভিযুক্ত রাকিব ও সাইফুল জোয়াদ্দারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘জমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রিক্যুইজিশন দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলমকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার অন্যতম প্রধান সুরক্ষা ব্যবস্থা উপকূল রক্ষা বাঁধ (বেরিবাঁধ) দখল ও এর ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।