ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোনালদোকে কেন তুলে নেননি

  • আপডেট সময় : ০৪:১০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৪১৫ বার পড়া হয়েছে

নির্ভুল বার্তা ডেক্সঃ

পুরো ৯০ মিনিট খেলে মোটে ২৫ বার বলে স্পর্শ, ৩টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পারেননি একটিও- ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে মোটাদাগে এই ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স। যা রোনালদোর মতো মহাতারকার নামের সঙ্গে কোনোভাবে মানানসই নয়!

রোনালদোর এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের দিনে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে নামা কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পর্তুগাল। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে পয়েন্ট খোয়ানোয় অনেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন রোনালদোকে। কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন, রোনালদোকে বদলি করা উচিত ছিল!

তবে এসব সমালোচনার ধার ধারছেন না পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তিনি জানিয়েছেন, রোনালদোকে বদলি করার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাননি তিনি।

অবশ্য জাতীয় দলের জার্সিতে বড় টুর্নামেন্টে রোনালদোর গোলখরা নতুন নয়। এ নিয়ে বিশ্বকাপে টানা ৫ ম্যাচ গোলহীন থাকলেন রোনালদো। বিশ্বকাপের সঙ্গে ইউরো বিবেচনায় নিলে, টানা ১০ ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পেনাল্টি বাদে ওপেন প্লে থেকে রোনালদো শেষবার গোল করেছেন ২০২১ সালের ১৯ জুন!

ম্যাচের পর ম্যাচ পুরো সময় খেলছেন রোনালদো। যথারীতি গতকাল কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো সময় খেললেও প্রতিপক্ষের গোলমুখে কোনো শট রাখতে পারেননি। বাজে পারফরম্যান্সের পরও রোনালদোকে কেন বদলি করাননি, এমন প্রশ্নের জবাবে পর্তুগাল কোচ মার্টিনেজ বলেছেন, ‘যে ম্যাচে আপনার গোল সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সে ম্যাচে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না।’

তাহলে পর্তুগালের সমস্যাটা কোথায় ছিল? মার্টিনেজের মতে, পর্তুগালের খেলায় তেমন আগ্রাসন ছিল না, ‘আমাদের শুরুটা খুব ভালো ছিল। আমাদের খেলার মান, ম্যাচের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়ার ধরন- সবই ছিল দারুণ। সাধারণত গোলের পর সেই আবেগ দলকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং দ্বিতীয় গোলের চেষ্টা করতে সাহায্য করে। কিন্তু এবার ঠিক উল্টোটা হয়েছে।’

হতাশা ঝেড়ে মার্টিনেজ আরও বলেন, ‘বরং আমরা বলের দখল ধরে রাখতে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ি। এর ফলে কঙ্গো তাদের রক্ষণভাগ নতুন করে সাজানোর এবং পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা করার সুযোগ পায়। আমরা আক্রমণের গভীরতা হারিয়ে ফেলি, যা কঙ্গোকে সাহায্য করেছে।’

তবে একটি ম্যাচের ফল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না মার্টিনেজ। এ প্রসঙ্গে কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হারের প্রসঙ্গ টেনে পর্তুগাল কোচ বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হেরেও বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। অথচ প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে ওদের চ্যাম্পিয়ন মনে হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রোনালদোকে কেন তুলে নেননি

আপডেট সময় : ০৪:১০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নির্ভুল বার্তা ডেক্সঃ

পুরো ৯০ মিনিট খেলে মোটে ২৫ বার বলে স্পর্শ, ৩টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পারেননি একটিও- ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে মোটাদাগে এই ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স। যা রোনালদোর মতো মহাতারকার নামের সঙ্গে কোনোভাবে মানানসই নয়!

রোনালদোর এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের দিনে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে নামা কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পর্তুগাল। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে পয়েন্ট খোয়ানোয় অনেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন রোনালদোকে। কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন, রোনালদোকে বদলি করা উচিত ছিল!

তবে এসব সমালোচনার ধার ধারছেন না পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তিনি জানিয়েছেন, রোনালদোকে বদলি করার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাননি তিনি।

অবশ্য জাতীয় দলের জার্সিতে বড় টুর্নামেন্টে রোনালদোর গোলখরা নতুন নয়। এ নিয়ে বিশ্বকাপে টানা ৫ ম্যাচ গোলহীন থাকলেন রোনালদো। বিশ্বকাপের সঙ্গে ইউরো বিবেচনায় নিলে, টানা ১০ ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পেনাল্টি বাদে ওপেন প্লে থেকে রোনালদো শেষবার গোল করেছেন ২০২১ সালের ১৯ জুন!

ম্যাচের পর ম্যাচ পুরো সময় খেলছেন রোনালদো। যথারীতি গতকাল কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো সময় খেললেও প্রতিপক্ষের গোলমুখে কোনো শট রাখতে পারেননি। বাজে পারফরম্যান্সের পরও রোনালদোকে কেন বদলি করাননি, এমন প্রশ্নের জবাবে পর্তুগাল কোচ মার্টিনেজ বলেছেন, ‘যে ম্যাচে আপনার গোল সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সে ম্যাচে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না।’

তাহলে পর্তুগালের সমস্যাটা কোথায় ছিল? মার্টিনেজের মতে, পর্তুগালের খেলায় তেমন আগ্রাসন ছিল না, ‘আমাদের শুরুটা খুব ভালো ছিল। আমাদের খেলার মান, ম্যাচের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়ার ধরন- সবই ছিল দারুণ। সাধারণত গোলের পর সেই আবেগ দলকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং দ্বিতীয় গোলের চেষ্টা করতে সাহায্য করে। কিন্তু এবার ঠিক উল্টোটা হয়েছে।’

হতাশা ঝেড়ে মার্টিনেজ আরও বলেন, ‘বরং আমরা বলের দখল ধরে রাখতে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ি। এর ফলে কঙ্গো তাদের রক্ষণভাগ নতুন করে সাজানোর এবং পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা করার সুযোগ পায়। আমরা আক্রমণের গভীরতা হারিয়ে ফেলি, যা কঙ্গোকে সাহায্য করেছে।’

তবে একটি ম্যাচের ফল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না মার্টিনেজ। এ প্রসঙ্গে কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হারের প্রসঙ্গ টেনে পর্তুগাল কোচ বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হেরেও বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। অথচ প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে ওদের চ্যাম্পিয়ন মনে হয়নি।