ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এইমাত্র পাওয়াঃ
Logo কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন Logo কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা পড়লো এক জোড়া বিষাক্ত ‘লায়নফিশ’ Logo বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পরলো ‘লাইন্ড সার্জনফিস’ Logo মহিপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত ম’র’দেহ উদ্ধার Logo কক্সবাজার ঢাকাগামী বাস থেকে ৯২ হাজার পিস ই/য়াবা উদ্ধার  Logo মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, টেকনাফ বিশেষ জোন ,কক্সবাজার কর্তৃক উখিয়ায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ১০,০০০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার Logo কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন: সভাপতি তুষার, সম্পাদক মিরন Logo মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণ দাবি– কলাপাড়ায় বৈরী আবহাওয়া ও অবৈধ ট্রলিংয়ের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত মৎস্যখাত Logo বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্যের প্রভাবে এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাত, চরম ভোগান্তি। Logo বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলার ডুবে ৭ জেলে নিখোঁজ
আজকের শিরোনামঃ
Logo কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন Logo কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা পড়লো এক জোড়া বিষাক্ত ‘লায়নফিশ’ Logo বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পরলো ‘লাইন্ড সার্জনফিস’ Logo মহিপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত ম’র’দেহ উদ্ধার Logo কক্সবাজার ঢাকাগামী বাস থেকে ৯২ হাজার পিস ই/য়াবা উদ্ধার  Logo মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, টেকনাফ বিশেষ জোন ,কক্সবাজার কর্তৃক উখিয়ায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ১০,০০০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার Logo কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন: সভাপতি তুষার, সম্পাদক মিরন Logo মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণ দাবি– কলাপাড়ায় বৈরী আবহাওয়া ও অবৈধ ট্রলিংয়ের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত মৎস্যখাত Logo বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্যের প্রভাবে এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাত, চরম ভোগান্তি। Logo বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলার ডুবে ৭ জেলে নিখোঁজ

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন

  • আপডেট সময় : ১২:৪০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৪০৯ বার পড়া হয়েছে

মহিপুর প্রতিনিধিঃ

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আবারও একটি মৃত ইরাবতী (Irrawaddy) প্রজাতির ডলফিন ভেসে এসেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে জোয়ারের পানিতে জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন সৈকত এলাকায় ডলফিনটির মরদেহ ভেসে আসে। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট। ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগে প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা), বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কে. এম. বাচ্চু বলেন, আগের তুলনায় ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও এখনও নিয়মিত এমন ঘটনা ঘটছে। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কার্যকর গবেষণা পরিচালনা করুক।

তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) উপকূলীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। “ডলফিন রক্ষা মানেই আমাদের উপকূলীয় পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,” যোগ করেন তিনি।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, মৃত প্রাণীটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন (Orcaella brevirostris)। ডলফিনটির শরীরে থাকা রক্তাক্ত দাগ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৌযানের আঘাত, মাছ ধরার জাল বা অন্যান্য মৎস্য আহরণ সরঞ্জামের সঙ্গে সংঘর্ষই মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এছাড়া শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক, তেলসহ নদী ও মোহনার দূষণও এ প্রজাতির জন্য বড় হুমকি। তিনি ডলফিন অভয়ারণ্য এলাকায় জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে উপকূলজুড়ে ডলফিন সংরক্ষণে কাজ করছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা কে. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আমাদের টিম পাঠানো হয়েছে। মৃত ডলফিনটি যথাযথভাবে মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের সমস্যা সৃষ্টি না হয়।

উল্লেখ্য, কুয়াকাটা উপকূলে এর আগেও একাধিকবার মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনা ঘটেছে পরিবেশবাদীদের মতে, এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি উপকূলীয় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি উদ্বেগজনক সংকেত।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন

আপডেট সময় : ১২:৪০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

মহিপুর প্রতিনিধিঃ

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আবারও একটি মৃত ইরাবতী (Irrawaddy) প্রজাতির ডলফিন ভেসে এসেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে জোয়ারের পানিতে জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন সৈকত এলাকায় ডলফিনটির মরদেহ ভেসে আসে। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট। ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগে প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা), বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কে. এম. বাচ্চু বলেন, আগের তুলনায় ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও এখনও নিয়মিত এমন ঘটনা ঘটছে। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কার্যকর গবেষণা পরিচালনা করুক।

তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) উপকূলীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। “ডলফিন রক্ষা মানেই আমাদের উপকূলীয় পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,” যোগ করেন তিনি।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, মৃত প্রাণীটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন (Orcaella brevirostris)। ডলফিনটির শরীরে থাকা রক্তাক্ত দাগ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৌযানের আঘাত, মাছ ধরার জাল বা অন্যান্য মৎস্য আহরণ সরঞ্জামের সঙ্গে সংঘর্ষই মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এছাড়া শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক, তেলসহ নদী ও মোহনার দূষণও এ প্রজাতির জন্য বড় হুমকি। তিনি ডলফিন অভয়ারণ্য এলাকায় জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে উপকূলজুড়ে ডলফিন সংরক্ষণে কাজ করছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা কে. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আমাদের টিম পাঠানো হয়েছে। মৃত ডলফিনটি যথাযথভাবে মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের সমস্যা সৃষ্টি না হয়।

উল্লেখ্য, কুয়াকাটা উপকূলে এর আগেও একাধিকবার মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনা ঘটেছে পরিবেশবাদীদের মতে, এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি উপকূলীয় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি উদ্বেগজনক সংকেত।