কলাপাড়া প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় একটি মসজিদের উন্নয়নকাজে বরাদ্দ করা ৩ লাখ টাকা ছাড় করাতে ৩০ হাজার টাকা ‘পার্সেন্টেজ’ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া চূড়ান্ত অর্থ ছাড়ের আগে স্ট্যাম্প ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের খরচের অজুহাতে আরও ৩ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (সিপিসি) সভাপতি।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়ে অননুমোদিত অর্থ লেনদেনের এমন অভিযোগে পিআইও কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের সুপারিশে টিআর কর্মসূচির আওতায় কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম হাজীপুর জামে মসজিদের নির্মাণকাজের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই পিআইও কার্যালয়ের অনিয়মের মুখোমুখি হতে হয় বলে অভিযোগ করেন সিপিসি সভাপতি মোস্তফা জামান সুজন। তিনি জানান, প্রথমে স্ট্যাম্প ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের খরচের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২১ জুলাই (২০২৬) পিআইও কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. হাফিজুর রহমান মুঠোফোনে তাঁকে অফিসে ডাকা হয় এবং বরাদ্দের ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০ হাজার টাকা ‘অফিস খরচ, অডিট, ভ্যাট ও আইটি’ বাবদ দাবি করা হয়।
সিপিসি সভাপতি মোস্তফা জামান সুজন বলেন, ‘স্ট্যাম্প খরচের পর আবার ১০ শতাংশ পার্সেন্টেজ চাইলে আমি বিষয়টি সরাসরি পিআইও স্যারকে জানাই। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে এড়িয়ে যান। আমাদের কাছে এ ঘটনার অডিও রেকর্ডসহ বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ জমা রয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অফিস সহকারী মো. হাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোকছেদুল আলম বলেন, ‘অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগ ওঠার পর তাকে সতর্ক করা হয়েছে। বরাদ্দের টাকা থেকে কোনো পার্সেন্টেজ রাখা হয়নি; সম্পূর্ণ টাকাই প্রকল্প কমিটিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি বা আইনি কর্তনের বাইরে ‘অফিস খরচ’ কিংবা ‘অডিট’ বাবদ ১০ শতাংশ অর্থ দাবির কোনো বৈধ ভিত্তি রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের দাবি, কলাপাড়ায় বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পের অর্থ ছাড়ে পিআইও কার্যালয়ের বিরুদ্ধে কমিশন বা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ নতুন নয়। হাজীপুর মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দেও টাকা দাবির ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।
উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ছাড়ে এমন ঘুষ দাবির ঘটনা খতিয়ে দেখে পিআইও কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।










